পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

বেইজিং অলিম্পিকে যাচ্ছেন না মার্কিন কর্মকর্তারা

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-07 14:46:23 BdST

bdnews24
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ‘বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকস’ এর লোগো। ছবি: রয়টার্স

চীনের মানবাধিকার লংঘন ও শিনজিয়াংয়ে নৃশংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা আগামী বছরের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকস বয়কট করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বৈঠক হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউস সোমবার আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিক গেইমস কূটনৈতিকভাবে বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

মার্কিন কর্মকর্তারা না গেলেও দেশটির অ্যাথলেটদের বেইজিংয়ের অলিম্পিকসে অংশ নিতে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো বাধা নেই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কূটনৈতিক বয়কটের এ সিদ্ধান্ত নিতে জো বাইডেন প্রশাসনকে উৎসাহিত করে আসছিল।

সোমবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণার আগেই বেইজিং এ ধরনের যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ‘পাল্টা শক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল; অবশ্য পাল্টা পদক্ষেপ কেমন হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তারা।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে; চীন তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াংয়ে মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুরদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়ে আসছে বলেও দাবি ওয়াশিংটনের।

“গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জঘন্য মানবাধিকার লংঘন ও শিনজিয়াংয়ে নৃশংসতার মুখে মার্কিন কূটনীতিক বা কর্মকর্তাদের (অলিম্পিক গেইমসে) উপস্থিতিতে সবকিছুই স্বাভাবিক আছে বলে বিবেচিত হবে, আমরা এটা করতে পারি না।

“যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেটরা আমাদের পূর্ণ সমর্থন পাবে। আমরা শতভাগ তাদের পেছনে থাকবো এবং বাড়ি থেকেই তাদেরকে উৎসাহ দেবো,” সোমবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমনটাই বলেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি।

বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টায় গত মাসে শি জিনপিং ও বাইডেনের মধ্যে ভিডিও বৈঠকের পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শীতকালীন অলিম্পিকস কূটনৈতিকভাবে বয়কটের এ সিদ্ধান্ত এল।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস বাইডেন প্রশাসনের এই বয়কটকে ‘রাজনৈতিক চাতুরি’ অ্যাখ্যায়িত করে বলেছে, অলিম্পিকসে অংশ নিতে মার্কিন রাজনীতিকদের আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

“সত্যিকার অর্থে এসব লোকজন এল কি গেল তা নিয়ে কেউ ভাববে না, তাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি বেইজিং ২০২২ শীতকালীন অলিম্পিকস সফলভাবে আয়োজন কোনো ধরনের প্রভাবই ফেলবে না,” বলেছেন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিউ।

জাতিসংঘে চীন মিশনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ কূটনৈতিক বয়কট যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধকালীন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

“যুক্তরাষ্ট্র কেবল খেলাধুলার রাজনীতিকরণ, বিভেদ সৃষ্টি ও সংঘাত উসকে দিতে চায়। এই ধরনের মনোভাব কারও সমর্থন পাবে না এবং ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে,” বলেছেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে বেইজিং অলিম্পিক গেইমস নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছিলেন; মার্কিন মিত্ররা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বয়কটের পদক্ষেপ অনুসরণ করবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

“চীনের মানবাধিকার লংঘন বিষয়ক যেসব উদ্বেগজনক খবর আসছে, তা নিয়ে কানাডা এখনও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জেনেছি আমরা, এ বিষয়ে আমরা অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি,” এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অস্ট্রেলিয়া ও জাপান মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারাও আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিক গেইমসে কর্মকর্তা পাঠানো হবে কি হবে না সে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে।

নিউ জিল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী গ্র্যান্ট রবার্টসন জানিয়েছেন, তার দেশও বেইজিং অলিম্পিকসে কর্মকর্তা পাঠাচ্ছে না; তবে তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত উদ্বেগই কারণ, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক বিভাগের প্রধান স্টেফানো স্যানিনো শুক্রবার বলেছিলেন, শীতকালীন অলিম্পিকস বয়কট করবে কি করবে না এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব ব্যাপার।

বিশ্বের বড় দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী বছরের ওই অলিম্পিকে যোগ দিতে চীনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

চীনের মানবাধিকার লংঘনের বিষয়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বিরুদ্ধে। আইওসি বলেছে, অলিম্পিক গেইমস ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে’ থাকা উচিত।

মার্কিন খেলোয়াড়দের অলিম্পিকস বয়কট করতে হবে না জেনে খুশি যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটির প্রধান নির্বাহী সারাহ হির্শল্যান্ড।

“যুক্তরাষ্ট্র দল উদ্দীপ্ত এবং পুরো দেশকে গর্বিত করতে প্রস্তুত,” বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দেশটির অনেক সাবেক খেলোয়াড়ও। তাদের মতে, রাজনীতির কারণে অ্যাথলেটদের শাস্তি পাওয়া ঠিক নয়।

তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বয়কটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। চীনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক কিছু করা উচিত বলেও মত তাদের।