সুখস্মৃতির কার্ডিফে নতুন প্রাপ্তির খোঁজে বাংলাদেশ

  • কার্ডিফ থেকে আরিফুল ইসলাম রনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-05-25 23:36:54 BdST

bdnews24

নিজের বোলিং সেশন তখন শেষ, ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে মাঠের দিকে আনমনে তাকিয়ে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পেছন থেকে এসে তার কাঁধে হাত রাখলেন হাবিবুল বাশার, “তুই যেন কোন পাশ থেকে বল করে হেইডেনের উইকেট নিলি?” মাশরাফি আঙুল উঁচিয়ে দেখালেন, ‘ওই পাশ, হেইডেন না গিলক্রিস্টের উইকেট!” শুরু হলো স্মৃতির জোয়ারে ভেসে চলা। দুইজনই ফিরে গেলেন ১৪ বছর আগের সেই ম্যাচে। দুই বছর আগের জয়ের কথাও এলো বারবার।

এবার কার্ডিফে এসে আগে একদিন অনুশীলন করলেও মূল ভেন্যু সোফিয়া গার্ডেনস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রথম অনুশীলন ছিল শনিবার। গ্ল্যামরগন কাউন্টি ক্লাবের সঙ্গে স্পন্সরদের চুক্তির সৌজন্যে স্টেডিয়ামের নাম নানা সময় পাল্টেছে। রয়ে গেছে বাংলাদেশের সৃখস্মৃতিগুলো।

২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে এখানেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিহাসের স্মরণীয়তম জয়গুলির একটি। সেই ম্যাচের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এবার দলের সঙ্গে আছেন নির্বাচক হয়ে।

ওই ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই বিপজ্জনক গিলক্রিস্টকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বাস জুগিয়েছিলেন মাশরাফি। পরে ১২ বছর পর ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আবার এই মাঠে ফেরেন মাশরাফি, এবার অধিনায়ক হবে। ধরা দেয় আরও একটি স্মরণীয় জয়। নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে।

এবার সেই মাঠেই শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পথচলা। রোববার ও মঙ্গলবার এখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। মূল টুর্নামেন্টেও আছে মহাগুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই, যেখানে মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দল। প্রস্তুতি ম্যাচে অনুশীলনটা দারুণভাবে করে মূল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে চায় বাংলাদেশ এখান থেকেই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচের কেবল দুজন আছেন এবারের সফরে, হাবিবুল ও মাশরাফি। স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরলেন দুজনই। প্রিয় বন্ধু জাভেদ ওমরের কথা মনে করে হাবিবুলের সে কী হাসি!

“আফতাব ছক্কা মারল শেষ ওভারে। একটু পর জিতে আমরা সবাই দৌড়ে যাচ্ছি আফতাবকে জড়িয়ে ধরতে। জাভেদ দেখি আরেক দিকে দৌড়ায়। ঘটনা কি? দেখি সে গিয়ে আগে একটি স্টাম্প বগলদাবা করছে!”

ক্রিকেট স্মারক সংগ্রহে রাখার ঝোঁক আছে জাভেদের। তিনি ছুটছিলেন সেই সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে!

তবে মাঠের অনেক কিছুই চিনতে পারছিলেন না হাবিবুল, “অনেক বদলে গেছে। আগে গ্যালারি এত বড় ছিল না। ড্রেসিং ওপরের ওপরে গ্যালারির ওই অংশ ছিল না। গাছ-পালা দেখা যেত, বাতাস আসত অনেক।”

মূলত ২০০৯ অ্যাশেজকে সামনে রেখে ২০০৭ সালে অনেক সংস্কার করা হয় মাঠে। দর্শক ধারণক্ষমতা বাড়ানোসহ সাজানো হয় নতুন করে। তখনই পরিবর্তনগুলো এসেছে। ২০০৯ অ্যাশেজ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছে এই মাঠের, হয়েছে ২০১৫ অ্যাশেজের একটি টেস্টও। মাঝে ২০১১ সালে একটি টেস্ট হয়েছে ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার।

মাশরাফি অবশ্য দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এসেই পরিবর্তনগুলো দেখেছেন। তবে মজা করে বললেন, মাঠ বদলালেও এখানে নিজেদের ভাগ্য বদল চান না!

“ভাই, এখানে অনেক কিছু বদলে গেছে ভালো কথা। আমাদের কিছু না বদলালেই হয়! যেভাবে আগে জিতেছি, সেটা চলতে থাকুক!”

এই মাঠের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এক উষ্ণ, সেটির পরশ আন্দোলিত করে এখানে কখনও না খেলা ক্রিকেটারদেরও। মেহেদী হাসান মিরাজ যেমন, ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সময় বয়স ছিল তার ৭ বছর। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচটিতে খেলার সুযোগই পাননি। এরপরও রোমাঞ্চিত এই অলরাউন্ডার।

“মাঠটা দেখলে আমাদের আনন্দ লাগে। এখানে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলাম আমরা। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। মাঠটা দেখলেই অনেক ভালো লাগে আমাদের। আত্মবিশ্বাসী লাগে। তবে দিন শেষে নতুন দিনে সবার ভালো খেলতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে, ভালো খেলে জিততে হবে।”


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  ক্রিকেট বিশ্বকাপ