১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

জন্মভূমির বিপক্ষে ফাইনালে নায়ক স্টোকস 

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-15 02:18:29 BdST

bdnews24

উদ্বোধনী দিনে পথ দেখিয়েছিলেন দলকে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল স্বাগতিকরা। টুর্নামেন্টের শেষ দিনে আবারও টানলেন দলকে। ইংল্যান্ড পেল বিশ্বকাপ শিরোপার অনির্বচনীয় স্বাদ। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন বেন স্টোকস। 

লর্ডসে রোববার ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে নিউ জিল্যান্ড। শেষ বলে অলআউট হওয়া ইংল্যান্ডও করে ২৪১ রান। ট্রেন্ট বোল্টের করা সুপার ওভারে স্টোকস ও জস বাটলার নেন ১৫ রান। জফরা আর্চারের ওভারে ১৫ রান নেন জিমি নিশাম ও মার্টিন গাপটিলও। ৫০ ওভার ও সুপার ওভার মিলিয়ে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় শিরোপা জেতে ওয়েন মর্গ্যানের দল। 
 
৯৮ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৮৪ রানের অসাধারণ ইনিংসে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান স্টোকসের। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন এই অলরাউন্ডার। 
 
গত বছর ব্রিস্টলে গভীর রাতে মারামারির ঘটনায় থমকে যেতে বসেছিল তার ক্যারিয়ার। কঠিন সেই সময় পেছনে ফেলে আজ তিনি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। স্টোকস অবশ্য কৃতিত্ব দিলেন পুরো দলকে।
 
“আমি আসলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার মনে হয় না, এই ম্যাচের মতো আর কোনো ম্যাচ ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো দিন হবে। জস (বাটলার) আর আমি জানতাম, যদি আমরা শেষ পর্যন্ত থাকি নিউ জিল্যান্ড চাপে পড়ে যাবে। আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে শেষ করতে পারিনি।.. জফরা আর্চার আজ নিজের সামর্থ্য ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়েছে।”    
 
স্টোকস ক্রিজে যাওয়ার সময় বেশ চাপে ছিল ইংল্যান্ড। মর্গ্যান দ্রুত ফিরে গেলে চাপ বাড়ে স্বাগতিকদের ওপর। বাটলারের সঙ্গে ১১০ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন স্টোকস। বাটলার ফিরে যাওয়ার পর প্রায় একার চেষ্টায় দলকে ২৪১ পর্যন্ত নিয়ে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। 
 
সুপার ওভারে ৩ বল খেলে স্টোকস করেন ৮ রান। ৩ বল খেলে বাটলার তোলেন ৭ রান। আর্চারের ওভার থেকে ১৫ রান নেয় নিউ জিল্যান্ড।

কিউই বাবা-মার সন্তান স্টোকসের জন্ম ক্রাইস্টচার্চে। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন নিউ জিল্যান্ডেই। পরে আসেন ইংল্যান্ডে। সেখানেই গড়ে নেন নিজের ক্যারিয়ার। ফাইনালের আগের দিন স্টোকসের বাবা বলেছিলেন, ছেলে নয় নিজের দেশকেই সমর্থন দেবেন তিনি। দারুণ ছন্দে থাকা অলরাউন্ডারের মা বলেছিলেন, যে দলই জিতুক, তারাই জয়ী। ফাইনালও হলো তেমনি। লর্ডসে হারেনি কেউ। জিতেছে ক্রিকেট, সেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল স্টোকস। 


ট্যাগ:  স্টোকস  ইংল্যান্ড  ক্রিকেট বিশ্বকাপ