২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ওভারথ্রোয়ে ইংল্যান্ডকে ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল: টাফেল

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-15 18:38:59 BdST

দ্বিতীয় রান নেওয়ার প্রচেষ্টায় নিজেকে বাঁচাতে ডাইভ দেওয়া বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বল পেরিয়ে যায় সীমানা। দৌড়ে ২ আর ওভারথ্রো ৪ মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে ৬ রান দেন আম্পায়ার, যা বড় এক ভুল বলে দাবি করেছেন মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেটের নিয়ম তৈরি করা সাব কমিটির সদস্য সাইমন টাফেল। নিয়ম অনুযায়ী, ওটা ৫ রান হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান এই আম্পায়ার। 

লন্ডনের লর্ডসে রোববার রোমাঞ্চে ভরা বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের করা ২৪১ রানের জবাবে শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল স্বাগতিকদের। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দুই বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি স্টোকস। তৃতীয় বলে হাঁকান ছক্কা।

চতুর্থ বলটি ছিল ফুল টস। স্টোকস খেলেন মিড উইকেটে। ইংল্যান্ডকে জিততে হলে তার স্ট্রাইক ধরে রাখার বিকল্প ছিল না। তাই দারুণ দ্রুততায় দ্বিতীয় রানের জন্য ছোটেন স্টোকস। সীমানা থেকে ফিল্ডার মার্টিন গাপটিলের থ্রো ধেয়ে আসছিল স্টাম্পের দিকে। ডাইভ দেন স্টোকস, তার বাড়ানো ব্যাটে লেগে বল পেরিয়ে যায় সীমানা।

৬ রান পায় ইংল্যান্ড। এ প্রসঙ্গে ফক্স স্পোর্টসকে টাফেল বলেন, “এটা পরিষ্কার ভুল...ভুল সিদ্ধান্ত। তাদেরকে (ইংল্যান্ড) পাঁচ রান দেওয়া উচিত ছিল, ছয় নয়।”

নিয়ম অনুযায়ী, ওভারথ্রো থেকে বাউন্ডারি এলে সেই চার রানের সঙ্গে দৌড়ে নেওয়া তত রানই যোগ হবে, ফিল্ডার বল ছাড়ার আগে যতবার দুই ব্যাটসম্যান রানিং বিটুইন দা উইকেটে পরস্পরকে অতিক্রম করতে পেরেছেন।

ওই ঘটনার ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেছে, গাপটিল বল থ্রো করার সময় স্টোকস ও রশিদ দ্বিতীয় রানের জন্য নিজেদের অতিক্রম করেননি।

পাঁচবারের বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জেতা টাফেল আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড যেহেতু দৌড়ে দ্বিতীয় রান নিতে পারেনি সেক্ষেত্রে স্টোকস নয়, পঞ্চম বলটি খেলা উচিত ছিল আদিল রশিদের। আর শেষ দুই বলে ৩ নয়, ৪ রান দরকার হতো তাদের।

তবে ওই সময় একই সঙ্গে অনেক কিছু ঘটছিল উল্লেখ করে ম্যাচের দুই আম্পায়ারের পাশে দাঁড়িয়েছেন টাফেল।

“ওই সময় মাঠে যা হচ্ছিল সেই উত্তেজনায় তারা ভেবেছিল, থ্রোয়ের সময় দুই ব্যাটসম্যান নিজেদের অতিক্রম করার ভালো সম্ভাবনা আছে।”

“অবশ্যই টিভি রিপ্লেতে অন্যরকম দেখাচ্ছে। ওখানে আম্পায়ারদের জন্য কঠিন কাজ হলো, ব্যাটসম্যানদের রান পূর্ণ করাটা দেখতে হবে, এরপর দৃষ্টি দিতে হবে ফিল্ডারের বল ধরা ও থ্রো করা। আপনাকে আরও দেখতে হবে ঠিক ওই সময়টায় ব্যাটসম্যানরা কোথায় ছিলেন।”

সিদ্ধান্তটা ম্যাচকে প্রভাবিত করেছে বলেই মনে করেন টাফেল। তবে এই কারণেই নিউ জিল্যান্ড হেরে গেছে-বিষয়টা এভাবে দেখা উচিত নয় বলে অভিমত তার। কারণ, সেটা ইংল্যান্ডের প্রতি অন্যায্য হবে।

ফাইনালের মূল ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারও টাই হয়। বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় এগিয়ে থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইংল্যান্ড।


ট্যাগ:  ইংল্যান্ড  নিউ জিল্যান্ড  ক্রিকেট বিশ্বকাপ