১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন বদি

  • টেকনাফ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-01-12 00:57:48 BdST

bdnews24
গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাহিন আকতার, পাশে ছিলেন তার স্বামী আব্দুর রহমান বদি।

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন আবদুর রহমান বদি, অন্যথায় পরিণতি ‘ভয়াবহ হবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বদি বলেছেন, টেকনাফের ছেলেহারা মা-বাবা, স্বামীহারা স্ত্রী ও বাবাহারা সন্তানদের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

ইয়াবা চোরাচালানে জড়িতদের আত্মসমর্পণের জন্য পাঁচ দিনের সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

মাদক চোরাচালানের জন্য আলোচিত মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় গত দুই মেয়াদের সাংসদ বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা পাচারের ‘হোতা’ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় নাম এসেছিল তার। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে বদির এক বেয়াইও ছিলেন।

এসব কারণে সমালোচিত বদি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, তার স্ত্রী  শাহিন আকতার চৌধুরী নৌকার প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফের লামাবাজারে নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান বদি।

সেখানে তিনি বলেন, “উখিয়া-টেকনাফে কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। কেউ যদি আত্মসমর্পণ না করে, পরে তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। টেকনাফের ছেলেহারা মা-বাবা, স্বামীহারা স্ত্রী ও বাবাহারা সন্তানদের কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নিয়েছি।

“যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত তাদের আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় বদিপত্নী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহিন আকতার ইয়াবা কারবারিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আত্মসমর্পণ না করলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে।

“এলাকায় তাদের কোনো রেহাই নেই। কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী এলাকায় থাকতে পারবে না। হয় ভালো হয়ে যেতে হবে, না হয় দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

“মাদক-ইয়াবা ব্যবসাসহ সব ধরনের অপকর্ম বন্ধ করতে যা যা করণীয়, আমি তাই করব। ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”

গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন শাহিন আকতার।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, ভাইস-চেয়াম্যান রফিক উদ্দিনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে ছিলেন।