১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

নীলফামারীতে শতবর্ষী গাছ কাটা ঠেকাল এলাকাবাসী

  • বিজয় চক্রবর্তী কাজল, নীলফামারী প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-01-18 16:26:37 BdST

bdnews24

নীলফামারী শহরে শতবর্ষী কয়েকটি গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার ঠিকাদারের লোকজন জীবন্ত চারটি গাছ কাটা শুরু করলে স্থানীয়রা তা বন্ধ করে দেন এবং গাছগুলো রক্ষার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নীলফামারী শহরের আদালত এলাকার প্রধান সড়কের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী দুটি কাঠবাদাম ও দুটি কড়ই গাছ গোপন দরপত্র দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে নিলামে বিক্রি করেছে জেলা পরিষদ।

তারা মানববন্ধন করে ওই গাছগুলো কাটা বন্ধের দাবি জানান।

ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনে অংশ নেন পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, জেলা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি মফিজার রহমান দুলাল প্রমুখ।

শহরের শহিদুল ইসলাম নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী ওই গাছগুলো কিনেছেন।

তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে চারটি গাছ আমি এক লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। ওই চারটি গাছের মধ্যে হেনচাই কড়াই গাছ কাটা শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ কারণে এখন গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।”

নীলফামারী সদর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে ওই গাছগুলির অবস্থান। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া ওই গাছগুলো কাটার ব্যাপারে পুলিশ সুপার আমাদের চিঠি দেন।

“আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞাপন দেই। সে অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।”

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন বলেন, “শতবর্ষী এসব গাছ আমাদের ঐতিহ্য। আদালত এলাকার এসব গাছের তলায় প্রখর রোদ্রে শতশত মানুষ আশ্রয় নেয়। সুস্থ এসব গাছ জেলা পরিষদ কেন, কার স্বার্থে কাটছেন তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। তাই আমরা দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

স্থানীয় মোস্তাফিজার রহমান দুলাল (৬৫) বলেন, “ছোটবেলায় আমরা দূর-দূরান্ত থেকে সুউচ্চ ওই গাছগুলো দেখে বলতাম ওটা আমাদের নীলফামারী শহর। গাছগুলো শতবর্ষী হলেও এখনও জীবন্ত ও সতেজ রয়েছে। এখন কোটি টাকায়ও ওই গাছ পাওয়া যাবে না। কারও ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলে আমরা ওই গাছ কাটতে দিব না।”

নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, “গাছগুলো অকারণে কেটে নীলফামারী জেলার ও পৌরসভার সৌন্দর্য নষ্ঠ করা হচ্ছে। আমরা যে কোনো মূল্যে ওই গাছ কাটা বন্ধ করব।”


ট্যাগ:  নীলফামারী জেলা  রংপুর বিভাগ