জয়পুরহাটে চামড়া কিনে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

  • জয়পুরহাট প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-14 15:27:55 BdST

bdnews24

জয়পুরহাটের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় লোকসান দিয়েই বেচতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরও যেখানে প্রতিটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়, এবার সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাটের চামড়া ব্যবসায়ী মুসা মিয়া বলেন, তিনি গ্রামে গ্রামে, হাটে-বাজারে ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনে আড়তে বিক্রি করেন।

“প্রায় ৪০ বছর ধরে আমি এ ব্যবসা করছি। এবারই চামড়ার বাজার দর সবচেয়ে খারাপ।”

জেলা শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রায়হান হোসেন লোকসানে চামড়া বিক্রি করেছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “কম দামে চামড়া কিনে মনে করলাম বেশি লাভ হবে। কিন্তু ৬০ হাজার টাকার চামড়া কিনে বিক্রি করলাম ৫২ হাজার টাকায়। আট হাজার টাকা লোকসান গুনলাম।”

একই মন্তব্য করেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর বাজারের মাহবুব হোসেনসহ আরও অনেকে।

সদর উপজেলার আমতলি এলাকার আড়তদার শামীম আহমেদ বলেন, “ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা গরুর চামড়া ৩০০ থেকে হাজার টাকায় কিনছি। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা যে এই মালগুলো আমাদের কাছ থেকে কিনবেন তার নিশ্চয়তা নেই।

“সরকার ৪০ টাকা ফুট বেঁধে দিলেও ট্যানারি মালিকরা ২০-২৫ টাকা দেন আর বকরির চামড়ার অবস্থা আরও খারাপ।”

সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এখনও তার প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন পাঁচবিবি উপজেলার চামড়ার আড়তদার ফয়েজুল ইসলাম ছোটন।

তিনি বলেন, “রপ্তানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব লোকই জানে। ফলে রপ্তানির সিদ্ধান্ত হলেই যে ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বেন, ব্যাপারটা সে রকম না। তাছাড়া পুঁজির অভাব আছে।”

তাছাড়া ট্যানারি মালিকরা তাদের বকেয়া পরিশোধ করছেন না এবং তারা তাদের ইচ্ছামত দাম কমিয়ে দেন বলেও জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ট্যানার্স অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি শাহিন বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৭ সালের আগে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা চামড়া ব্যবসায়ীদের শতভাগ বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছেন। তারপর কিছু টাকা বকেয়া হয়েছে।

“আগামী ২০ অগাস্ট থেকে আমরা সরকারনির্ধারিত দামেই লবণ দেওয়া চামড়া কেনা শুরু করব। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বলব, আপনারা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করুন।”

জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তালশন গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, কালাই উপজেলার থানা পাড়া এলাকার সেলিম সারওয়ার সেলিম, পাঁচবিবি উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মানিক হোসেনসহ অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকার পাওনাদার হত দরিদ্র, দুস্থ, এতিম ও ছিন্নমূল মানুষ। দাম না থাকায় এবার তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।