এক অংকে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা

  • সাইফুল আলম বাবু, পঞ্চগড় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-12-07 17:13:56 BdST

bdnews24

পৌষ মাস আসার আগেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার এক অংকে নেমে শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে।

শনিবার সকাল ৬টায় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার তেঁতুলিয়ায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

এর আগে শুক্র ও বৃহস্পতিবারও তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি এবং বুধবার ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলেও জানান তিনি।

দেশের রেকর্ড কম তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারিতে ছিল এই তেঁতুলিয়ায়।

এর আগে ঢাকার আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেছিলেন, “এবারও স্বাভাবিক শীত থাকবে আশা করা যায়। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে দুয়েক দিনের জন্য তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”

চলতি ডিসেম্বর মাসের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা কম থাকলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। থার্মোমিটারের পারদ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। আর পারদ ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে বলে ধরা হয়।

পঞ্চগড়ে দিনে গরম লাগলেও রাতের হিমেল হাওয়ায় বেশ শীত অনুভব হচ্ছে। লেপ গায়ে নিয়ে ঘুমাতে হলেও গত তিন দিন তেমন কুয়াশা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন।

পঞ্চগড় শহরের ধাক্কামারা এলাকার আব্দুল বাছেদ (৬৮) বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে প্রতি মৌসুমেই অন্য এলাকার তুলনায় পঞ্চগড়ে আগেভাগেই শীত আসে।

“একই কারণে শীতের তীব্রতা ও স্থায়ীত্বও এ এলাকায় সবসময় বেশি থাকে।”

পৌর এলাকার নিকটবর্তী তালমা বাজারের ষাটোর্ধ আবুল কাশেম বলেন, বিকেল পর্যন্ত শরীরে তাপ লাগলেও সন্ধ্যা হতেই ঠাণ্ডা লাগা শুরু করে।

“মনে হচ্ছে শীত নেমে গেছে”

তার পাঁচ বছর বয়সী এক নাতি গত তিনদিন ধরে সর্দি-জ্বরে ভুগছে উল্লেখ করে জানান, ডাক্তার ওকে সবসময় গরম কাপড় পরাতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, গ্রামেগঞ্জে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করার সাথে সাথে দরিদ্র লোকজন শীতবস্ত্রের জন্য আমাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।

“আমরা বেশকিছু কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। শীঘ্রই এগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল মান্নান বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে ২১ হাজারের বেশি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এগুলো ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ চাওয়া হবে।


ট্যাগ:  রংপুর বিভাগ  পঞ্চগড় জেলা