ঠাকুরগাঁওয়ে ‘অজ্ঞাত’ রোগে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩

  • ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-24 18:20:32 BdST

bdnews24

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘অজ্ঞাত রোগে’ আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও মন্ডলপাড়া গ্রামের এক পরিবারে এ ঘটনা ঘটেছে।

দুওসুও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমার ইউনিয়নে একই পরিবারের দুইজন অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রকিবুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,অসুস্থ তিন নারীকে হাসপাতালে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। তাদেরকে সার্বক্ষণিক নিবির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

“অসুস্থ তিন নারীর প্রাথমিক পরীক্ষায় খারাপ কোন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তারপরও তাদের আরও পরীক্ষার জন্য ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে চিকিৎসক দল আসছে।তারা এসে এ তিন নারীর বিভিন্ন পরীক্ষা করবেন।

“এছাড়া নিহত দুই নারী কী কারণে মারা গেছেন সেটিও আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে তারা কেন মারা গিয়েছে।”

অজ্ঞাত রোগে যারা মারা গেছেন-সনগাঁও মন্ডলপাড়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী মিনা বেগম (৩২) ও হাফিজুলের বড় ভাই হাজিরুল ইসলামের স্ত্রী  পসিনা বেগম (৩৫)।

চিকিৎসাধীন রয়েছেন-হাফিজুরের মা হাজেরা বেগম (৬০), তার মেয়ে তানজিনা আক্তার ও ছোট ভাই মফিজুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩২)।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা হাজেরা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আমার বৌমা মিনা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।

মিনার মৃত্যুর পর শোকাচ্ছন্ন এ পরিবারের আরেক ছেলের বউ পসিনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন।

“শনিবার সকালে অসুস্থ পসিনাকে তার পরিবারের লোকজন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহরের মিস্ত্রিপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পসিনা বমি করার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

“রাতে তাকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর পসিনাকে ফের তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে যায়। ভোর ৪টার দিকে পসিনা মারা যায়।”

বৃদ্ধা হাজেরা বলেন, একদিনের ব্যবধানে আমার দুই বউমা হঠাৎ করেই মারা গিয়েছে। কিন্তু কী করণে তারা মারা গেল নিশ্চিতভাবে চিকিৎসক বলতে পারেননি।”

তবে এদের দুইজনের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল বলে জানান তিনি।

পরিবারের দুই নারীর মৃত্যুর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাদের শাশুড়ি হাজেরা বেগম নিজেও। পাশপাশি তার আরেক ছেলের বউ আলেয়া বেগম ও নাতনি তানজিনা আক্তারও অসুস্থ হন।

এ খবর পেয়ে রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর চিকিৎসারা। তারা অসুস্থ তিন নারীকে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। পাশপাশি এলাকার লোকজনকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন।

তবে আতঙ্ক না ছড়ানোর  আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


ট্যাগ:  ঠাকুরগাঁও জেলা  রংপুর বিভাগ