ভারতীয় পণ্য নিয়ে প্রথম কন্টেইনারবাহী ট্রেন বেনাপোলে

  • আসাদুজ্জামান আসাদ, বেনাপোল প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-26 18:48:21 BdST

bdnews24

ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে প্রথম কন্টেইনারবাহী ট্রেন বেনাপোল বন্দরে এসেছে।

বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, রোববার দুপুরে ৫০টি সাইডডোর কন্টেইনারে বিভিন্ন আমদানিকারকের ৬৪০ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে কার্গো ট্রেনের প্রথম চালানটি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। 

কলকাতার মোমিনপুর থেকে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ট্রেনটি বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বলে জানান সাইদুর।

এর আগে শুধু বাল্ক কার্গো ট্রেনে পাথর, পাথর চিপস, ধান ও চাল আমদানি হতো। কিন্তু কন্টেইনার ট্রেনে আমদানি এই প্রথম। এখন থেকে সব ধরনের পণ্য কন্টেইনার ট্রেনে আনা যাবে। 

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, রোববার আসা ৫০টি কন্টেইনারে 'প্রক্টার এন্ড গ্যাম্বেল' (পিএন্ডজি), 'চিটাগং এশিয়ান এ্যাপারেলস লিমিটেড', 'ডেনিমেক লিমিটেড', 'প্যাসিফিক জিন্স', 'ফ্যাশান ফোরাম', 'শাহ মাখদুম'সহ ছয় আমদানিকারকের পণ্য ছিল।

আমদানিকারকদের প্রতিনিধি এবং কন্টেইনার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে 'এমজি এইচ গ্রুপ' (ট্রান্সমেরিন লজিস্টিক)।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাব-কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর কিছুদিন রেল কার্গো বেনাপোলে এসেছে। এরপর রেল কার্গো হ্যান্ডেলিং বন্ধ হয়ে যায়। উদ্দেশ্য ভারতের পার্কিং সিন্ডিকেটের বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি।

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বেনাপোলে রেল কার্গো চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ান কাস্টমস এর যৌথ প্রচেষ্টায়, “বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে এই সেবাটি বাস্তবায়ন করেছে। এই কন্টেইনার রেল মুভমেন্টের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেমন উন্নয়ন হবে; তেমনি দুই দেশের ব্যবসায়ীগণ উপকৃতও হবেন।”

ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, “এশিয়ান হাইওয়ের ট্রানজিট করিডোরের 'প্রথম গেটওয়ে' বেনাপোল। ভারতের সাথে এই বন্দর দিয়ে প্রতিবছর ৩০০ কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এখান থেকে সরকার প্রতি বছর সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব পায়।”

রেল কার্গোর মাধ্যমে পণ্য আমদানির বিষয়ে বেনাপোল শুল্ক ভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, সাইডডোর কন্টেইনার নিয়ে ভারত থেকে প্রথম কার্গো ট্রেনটি বেনাপোলে আসার মাধ্যমে একটি নবদিগন্তের উন্মোচন হল। এখন থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোলের সকল অংশীজন এনবিআরের আদেশের আলোকে নিজ নিজ পণ্য ও কার্গো আমদানি করতে করতে পারবেন।

“একটি ওয়াগনে চার ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়। রেল কার্গোতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ কম। ট্রেনের ভাড়া ট্রাকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। আবশ্যিক পার্কিং, ট্রাকের দীর্ঘসময় অপেক্ষা ও চাঁদা নেই। দিনে ১০০ বগির একটি ট্রেনে ৪০০ ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়।” 

এতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্কায়নের সময়, পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং আমদানি পণ্য কম সময়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছে যাবে বলে তিনি জানান। 


ট্যাগ:  যশোর জেলা  খুলনা বিভাগ  বেনাপোল