ইউরোপ যেদিন ভ্যাকসিন পাবে, আমরাও সেদিন পাব: স্বাস্থ্যের ডিজি

  • গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-12 02:53:36 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাসের টিকা এলে ইউরোপ যখন পাবে, তখন বাংলাদেশও ওই টিকা পাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

মঙ্গলবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “গত সোমবার মন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে আমরা ভ্যাকসিন নিয়ে জরুরি সভা করেছি। সেখানে কীভাবে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারি, কীভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, কীভাবে বেশি ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি- সে সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এটি অনেকটা টেকনিকাল ও স্টেপওয়াইজ প্রসেসিং। বাংলাদেশ সবগুলো স্টেজের সাথে আছে। পিছিয়ে নেই। আমরা আশা করি, ইউরোপ যেদিন ভ্যাকসিন পাবে, আমরাও সেদিন ভ্যাকসিন পাব।”

এই আশাবাদের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন নিয়ে যারা কাজ করে গ্যাভি, তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। সে সুবাদে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে যাতে পেতে পারি, সে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্যাভির সাথে চুক্তি হয়েছে। গ্যাভির নির্দেশনা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শর্ত মেনে নিয়ে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সাথে সাথে কেউ যাতে ভ্যাকসিন একা পেয়ে না যায়, যাদের অনেক বেশি শক্ত অবস্থান তারা যাতে নিয়ে না যায়। সবাই যাতে একসঙ্গে পায়। আমাদের দেশ ও আমাদের মতো অন্যান্য দেশ যাতে পায়। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমরা কাজ করছি।”

প্রাণঘাতী ও সংক্রামক ব্যাধি থেকে দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবনরক্ষায় টিকা প্রদানে ভূমিকা রাখা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) বিশ্বের নিম্ন ও মধ্য আয়ের ৯২টি দেশকে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা এরইমধ্যে টিকা উদ্ভাবনের কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও টিকা প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে চুক্তিও করেছে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটও রয়েছে এই তালিকায়। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্যাভি ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা হয়েছে, যাতে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরি হলে ২০২১ সালের প্রথম দিকেই নিম্ন ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ করা হবে।

ডা. খুরশীদ আলম বলেন, “ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা আছে। প্রথম ধাপে ভ্যাকসিনটা দেওয়া হবে যারা ফ্রন্টলাইনের করোনা যোদ্ধা। যারা স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, সাংবাদিক, যারা রাস্তায় আছেন। তার পরের ধাপে আছেন যাদের কোমরবিডিটি, ডায়াবেটিস ও হাইপার টেনশনে আক্রান্তরা। পরের ধাপে অরেকজনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

“আমাদের ওপর নির্দেশনা আছে, যেভাবেই পারা যায় আমরা যেন প্রথম ধাপেই ভ্যাকসিন পাই। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিব মহোদয় যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”

জাতির পিতার জন্মভূমি গোপালগঞ্জে করোনাভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সকালে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ অগাস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এ সময় গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ, শেখ সাহেরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. লিয়াকত হোসেন তপন, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পরে মহাপরিচালক টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু ভবনে পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লেখেন।


ট্যাগ:  ঢাকা বিভাগ  গোপালগঞ্জ জেলা