‘এইবার গেছেবার থেইক্যা ফলন বেশি অইছে’

  • লাভলু পাল চৌধুরী, নেত্রকোণা প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-23 15:04:08 BdST

bdnews24

বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় নেত্রকোণায় বিভিন্ন এলাকায় চাষিদের মনে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। চারদিকে উৎসবের আমেজে চলছে ফসল কাটাই-মাড়াইয়ের কাজ।

শিগগিরই আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকলেও তার আগেই কাটাই-মাড়াই শেষ হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ সবাই এখন ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

খালিয়াজুরীর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের কৃষক সুকুমার সরকার বলেন, তিনি প্রায় ১০ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন।

“এইবার হাওরে ধানের ফলন খুবই ভালা অইছে। হাইব্রিড একরে ১০০ মণের বেশি পাইছি। হাইব্রিডের মতই ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতটাও আগের থেইক্যা বেশি অইছে। গেছেবার ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ একরে পাইছিলাম ৫৫ মণের মত। এইবার ৬০ থেইক্যা ৬৫ মণ পাইতাছি। এইবার আবহাওয়া ভালা আছিল। ফলন বেশি অইছে।”

কৃষকরা জানান, এবার হাইব্রিড জাতের মধ্যে হিরা, জনকরাজ, মহারাজ, ব্রি-১২০৩, ঝলক ধান বেশি আবাদ করেছেন তারা। তাছাড়া ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ আর অল্প পরিমাণে স্থানীয় জাতের আবাদ করেছেন।

এরশাদ মিয়া নামে একজন চাষি বলেন, “হেভি ফলন পাইছি। যা ভাবছিলাম এর থেইক্যা বেশি পাইছি। একরে ১০০ মণের বেশি আইছে। কোনো জমিতে কাঠায় ১১ মণ আর কোনো জমিতে কাঠায় ১০ থেইক্যা সাড়ে ১০ মণ পাইছি।

“বাতে বাতে (সময়মত) বৃষ্টি অইছে, শীত বেশি দিন আছিল না। যতডা প্রয়োজন গরমের অতটাই আছিল। আবহাওয়াডা ভালা থাহনে ফলনডা ভালা আইছে।”

চাষাবাদের সময় কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রহিম আলী।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এইবার আবহাওয়া আছিল ধানের পক্ষে। কৃষি কর্মকর্তারারে পাশে পাইছি। পরামর্শ দিছে। সার-কীটনাশক পাইছি। আগামীতেও কৃষি অফিসের লোকেরা এইবায় আমরার পাশে থাকব এইডা চাই।”

তিনি চারদিন আগেই তার সব জমির ধান কাটাই-মাড়াই শেষ করেছেন বলে জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নেত্রকোণায় সমতল, পাহাড়ি ও হাওর মিলে এবার এক লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটাই-মাড়াই শেষ হয়েছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পুরোটা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

“এই লক্ষ্যে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করাসহ ধান কাটা তত্বাবধান করছেন। হাওরে ২৬ হাজার শ্রমিক, ১৩৫ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ধান কাটাই-মাড়াইয়ে কাজ করছে।”

জেলায় এবার হিট শকে সাত হাজার ৭০০ হেক্টর জমির প্রায় ৪০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে ভাল ফলন হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে।

এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতে পানি বাড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, ২৫ এপ্রিল নাগাদ হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের বরাক অববাহিকাসহ চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে আগাম বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

“স্থানীয় নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে তা এখনও নদীর অনেক নিচে রয়েছে। তাছাড়া আগাম বন্যা হলেও কৃষকের ফসলহানির আশঙ্কা নেই। ৩০০ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের মধ্যে ১০১ দশমিক ২ কিলোমিটার ঝুকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। তবু দ্রুত ধান কেটে গোলায় তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে জনানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। হাওরে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গেও কথা বলেছি।”

জেলার ডিসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদে ধান তুলতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে।