ঝালকাঠিতে জোয়ারে আশ্রায়নের ঘর ভাঙার ‘কারণ খুঁজবে’ প্রশাসন

  • ঝালকাঠি প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-31 21:50:00 BdST

bdnews24

ঝালকাঠিতে মুজিববর্ষের উপহারের জন্য নির্মাণধীন কয়েকটি ঘরের বারান্দা ভেঙে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্যার কারণেই পানি উঠে কয়েকটি ঘরে বারান্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যে সেগুলি মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

“তারপরও কেন এ ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”

সম্প্রতি পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি ঢোকার পর গালুয়াদুর্গাপুরে ১১টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে রাজাপুর জেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম মোস্তফা বলেন, “কেন্দ্রীয়ভাবে যে ডিজাইন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। আর ঘর নির্মাণের যে বাজেট রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ভালো মান বজায় রেখে এ ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

“প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

এ নিয়ে কথা হয় গালুয়াদুর্গাপুরের বাসিন্দা গোলাম মোস্তাফ, মিয়া আব্দুল খলিল, দুলাল গাজী এবং মাওলানা ওহিদুল ইসলামের সঙ্গে।

তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, পোনা নদীর পাড়ে নিচু জমিগুলো স্বাভাবিক জোয়ারেই পানিতে ডুবে যায়। আষাঢ়, শ্রাবন ও ভাদ্র তিন মাস এ নিচু জায়গা পানিতে সব সময় ডুবে থাকে।

পূর্ণিমার জোয়ারের স্রোতে নির্মাণাধীন স্থানে পানি ওঠে। এসব ঘরের ‘ফাউন্ডেশন না থাকায়’ পানিতে নিচের বালু ভেসে গিয়ে ওই ঘরগুলোর বারান্দা ভেঙে পড়ে বলছেন তারা।

বালু ভরাট করার পরপরই ইট বিছিয়ে নির্মাণ কাজ করায় এ ভাঙন হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়াও বড়ইয়ার চল্লিশকাহনিয়ায় একটি ঘরের অংশিক ভেঙে যাওয়ার পর মেরামত করা হয়েছে। পানি উঠেছে অন্য ঘরগুলোতেও বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, গৃহীনদের জন্য মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় এ উপজেলায় ৩৩৩টি পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১১৫টি ঘর নির্মাণ শেষে সুবিধাভোগীদের মাঝে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কাজ চলমান রয়েছে।