নাসুমের মাথায় এখনও জেলা ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা

  • সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-04 22:42:53 BdST

bdnews24

টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কারিগর নাসুম আহমেদের মাথায় এখনও ঝুলছে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার আজীবন নিষেধাজ্ঞা। 

২০১৫ সালে জেলা দলের হয়ে ম্যাচ না খেলে সিলেট বিভাগীয় দলের হয়ে খেলায় নাসুমকে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা আজীবন নিষিদ্ধ করে। তবে জেলায় নিষিদ্ধ থাকলেও অন্য জায়গায় ঠিকই খেলেছেন তিনি।

এবার তার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা জানান।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ২৩ রানে জয় পায়। এই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাসুম।

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবে ব্যাটসমান হিসেবে এক যুগ আগে অভিষেক হয়েছিল সুনামগঞ্জের ছেলে নাসুম আহমেদের।

তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরঘেরা দুর্গম জনপদ মধুরাপুরে। তবে তিনি সপরিবারে বিভাগীয় শহর সিলেট থাকেন। তার বাবা আক্কাস আলী একজন কৃষক।

সুনামগঞ্জ প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল বখত বলেন, “আমার হাত ধরেই প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় ক্রিকেট চর্চা শুরু করে নাসুম। তখন ২০০৯ সাল। সে ছিল উঠতি কিশোর। কিন্তু ক্রিকেট অন্তপ্রাণ ছিল। সে সুনামগঞ্জ জেলা দলের হয়ে খেলার লক্ষ্যে নিয়েই সুনামগঞ্জে আসে। ২০১৪ সন পর্যন্ত আমাদের ক্লাবে নিয়মিত খেলে।”

পরে বয়সভিত্তিক সিলেট জেলা দলের হয়ে খেলেন, এবং সুনামগঞ্জ জেলা ক্রিকেটের সঙ্গে তার ছেদ পড়ে বলে জানান উজ্জ্বল।  

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড় তাসলিমুল ইসলাম বলেন, “নাসুম ভাই ছিলেন আমাদের কাছে আদর্শ অলরাউন্ডার। আমরা ব্যাটিং বোলিংয়ে তার নৈপুণ্য দেখেছি।”

জেলার উঠতি কিশোররা তার সংস্পর্শ পেলে আরও অনেক মেধাবী ক্রিকেটার উঠে আসত বলে তিনি মনে করেন।

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের সাবেক ক্যাপ্টেন হোসেন আহমেদ রাসেল বলেন, ক্রিকেট পাগল নাসুম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলের তারকা ক্রিকেটারদের খেলার কৌশল খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করত। বাম হাতে ‘ধুন্ধুমার’ ব্যাটিং করত। সঙ্গে অফ স্পিন ছিল বাড়তি যোগ্যতা।

“কিন্তু এক পর্যায়ে তার ব্যাটিং লাইন চাপা পড়ে আগুনে বোলিংয়ের কারণে। তবে আমার বিশ্বাস সে সুযোগ পেলে ব্যাটিংয়েও তার যোগ্যতা দেখাতে পারবে জাতিকে।”

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনাম আহমেদ বলেন, “বিশ্ববাসী আমাদের নাসুমকে চিনছে অফ স্পিনার বোলার হিসেবে; কিন্তু আমাদের ক্লাবে ২০০৯ সালে ছোট্ট নাসুম বাঁহাতি ব্যাটসমান হিসেবে সুযোগ পেয়েছিল। পরে সে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে আমাদের টিমকে একাধিক জয় এনে দিয়েছিল।”

কিন্তু তারা নাসুমকে বেশি সুযোগ সুবিধা দিতে পারেননি এবং জেলা ক্রিকেট কমিটিও তাকে তেমন সুযোগ সুবিধা দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন এনাম।

এনাম বলেন, “এ কারণে জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হলে সে আমাদের জানায়- সুনামগঞ্জ জেলা টিমে সুযোগ সুবিধা কম। তাই সিলেট দলে খেলবে। ক্রিকেট নিয়ে তার স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সে সিলেট জেলার হয়ে খেলে।”

এই ‘তুচ্ছ’ কারণে তাকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আজীবনের জন্য যখন তাকে নিষিদ্ধ করে তখন ওই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন বলে জানান এনাম।

“ক্রিকেটের প্রতি তার নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও প্রেম আজ দেখিয়ে দিল সে তার লক্ষ্যে অবিচল ছিল। আমরা অবিলম্বে তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে লজ্জা থেকে মুক্তির দাবি জানাই।”

সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন, জেলা দলের হয়ে না খেলে বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে সিলেট জেলা দলের হয়ে খেলেছিলেন নাসুম। এ কারণে তাকে জেলায় আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।

“পরবর্তীতে সে যখন ২০২০ সালে ক্রিকেট খেলতে সুনামগঞ্জে আসে তখন এই কারণে তাকে খেলতে দেওয়া হয়নি। তবে এসব বিষয় আমার জানা ছিল না। আগামী মিটিংয়ে আমরা বৈঠক করে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেব।”