নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

  • নীলফামারী প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-21 20:15:31 BdST

bdnews24

নীলফামারীর ডিমলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।

মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মাহবুবর রহমান।

দণ্ডিত আলমগীর হোসেন (২৯) ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

দাণ্ডাদেশে তার ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রেমের সর্ম্পকের জেরে ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর আলমগীর হোসেন একই ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়েতে যৌতুক হিসেবে আলমগীরকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়; তবে ওই সময় দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করতেন আলমগীরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এরই জের ধরে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে আলমগীরের স্ত্রীকে শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে এবং শোয়ার খাটের পায়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে আলমগীর ও তার বাড়ির লোকজন হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আলমগীর হোসেন প্রধান আসামি করে আট জনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্য আসামিরা হলেন আলমগীরের বাবা সিরাজুল ইসলাম, মা আনোয়ারা বেগম, বোন শিল্পী বেগম, চাচা ওবায়দুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও ফুফু রওশন আরা বেগম।

২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল সাত জনকে অব্যাহতি দিয়ে আলমগীর হোসেনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিমলা থানা পুলিশ।

নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রমেন্দ্র বর্ধন বাপী বলেন, মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করে। এতে আলমগীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয় আদালত।