পার্বত্য চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে পাহাড়ে নানা আয়োজন

  • রাঙামাটি ও বান্দরবান প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-02 18:38:57 BdST

bdnews24

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙামাটি ও বান্দরবানে পার্বত্য চুক্তির দুই যুগ পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

দিনটি পালনোপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি শহরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পায়রা ওড়ানো হয়; নৃত্যানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়।

এছাড়া জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিও আলোচনা সভার আয়োজন করে।  

অপরদিকে বান্দরবানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া রাজারমাঠে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প এবং গরিব অসহায় মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে পাহাড়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলনের সমাপ্তি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার ওই চুক্তি করেছিল। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে জনসংহতি সমিতি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

রাঙামাটি সকালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে পায়রা উড়িয়ে ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান সূচনা হয়। পরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়েঅজিত আলোচনা সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাংসদ দীপংকর তালুকদার বলেন, “চুক্তি নিয়ে আজ ঢাকায় সন্তু লারমার অনুষ্ঠানের কথা শুনেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে উনি আমন্ত্রণ জানাননি, বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতদের নিমন্ত্রণ করেছেন। দূতাবাসের মাধ্যমে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব না।”

অস্ত্রের মাধ্যমে পার্বত্য সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে দীপংকর তালুকদার আরও বলেন, “যদি অস্ত্রের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতো তাহলে শান্তিচুক্তি করতেন না।”

জনসংহতি সংহতি সমিতির নেতারা তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা মানুষ মারবেন, চাঁদাবাজি করবেন, আর আমরা বিচার চাইতে পারব না?”

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান, ডিজিএফআই অধিনায়ক কর্নেল সলমন ইবনে এ রইফ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের।

জনসংহতি সমিতির আলোচনা সভা

দিনটি পালনোপলক্ষে রাঙামাটি শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।  

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা সদস্য গঙ্গা মানিকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মেঞ চিং মার্মা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জনসংহতি সমিতির হিসাব অনুযায়ী সরকার দুই যুগে চুক্তির ২৫টি ধারা বাস্তবায়ন করেছে; সে হিসাবে প্রতিবছর একটি করে ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। এমন হলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হতে আরও ৪৮ বছর লাগবে।

বক্তারা চুক্তি বাস্তবায়নে ‘ব্যর্থতার’ জন্য ‘আওয়ামী লীগক ‘ দায়ী করেন এবং আগামী বছরের মধ্যেই পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

বান্দরবান দিনটি পালনোপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমার নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় পাহাড়ের ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় রাজার মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

পরে স্থানীয় রাজারমাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জিয়াউল হক বলেন, ২রা ডিসেম্বর বিজয় মাসে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেহেতু এই বিজয়ের মাসে শান্তি চুক্তির হয়েছে, এই শান্তিচুক্তির মাধ্যমেই এই এলাকায় বিজয় আসবে।

সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকতার উস সামাদ রাফি বলেন, শান্তিচুক্তি অনেক ধারার ভেতর এত ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে, এত ধারা হয়নি এই নিয়ে টক শো হচ্ছে। কিন্তু কোনো আলোচনায় দেখবেন না দুটি ধারার মধ্যে একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

“যেকোনো চুক্তি, যেকোনো ফিলিংস এবং যেকোনো সমঝোতা চুক্তি কেবলমাত্র একপাক্ষিক বোঝাপড়া হলে সাধারণ জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারে না।”

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমার সভাপতিত্বে আরও বক্কব্য রাখেন পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফর রহমান, সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা, জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হক বাহাদুর ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর।