স্বামীর বিয়ের চেষ্টা, শ্বশুরবাড়িতে অনশনে প্রথম স্ত্রী

  • মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-22 00:52:25 BdST

bdnews24

মানিকগঞ্জে এক ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে তিনদিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন প্রথম স্ত্রী, যাকে ইতিমধ্যে তালাকের নোটিস পাঠানো হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা উজানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।  

ওই নারীর প্রবাসফেরত স্বামী রহম আলী দেওয়ান (৫০) ঝিটকা উজানপাড়ার প্রয়াত আব্দুল আলী দেওয়ানের ছেলে। তাদের তিন মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের বিয়ে হয়েছে, আরেকজন দশম শ্রেণির ছাত্রী।  

রহম আলী দেওয়ান ইতিমধ্যে ওই নারীকে দুই দফা তালাকের নোটিস পাঠিয়েছেন বলে এই নারী ও স্থানীয়রা জানান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পারিবারিক কোলহের জের ধরে গত বছরের ২০ এপ্রিল  স্ত্রীকে তালাক দেন রহম আলী দেওয়ান। আইনগতভাবে তালাকটি সম্পন্ন না হওয়ায় গত বছরের ৬ মে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তালাক নোটিশ পাঠান স্বামী রহম আলী। কিন্তু তালাক নোটিশটি গ্রহণ না করে ওই গৃহবধূ এলাকার লোকজনকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য অবহিত করে। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে উভয়পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।

এরই মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি (সোমবার) মধ্য রাতে একই গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে রহম আলীর দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করলে সেখানে হাজির হন প্রথম স্ত্রী ওই গৃহবধূ। পরে বিয়ে পন্ড হলে ওই দিন রাতেই রহম আলীর বাড়িতে অনশনে বসেন ওই গৃহবধূ। খবর পেয়ে ২০ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ বলেন, "আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। আর্থিক বিষয় দেখিয়ে একতরফাভাবে আমাকে তালাক দিয়েছে। এলাকার কয়েকজন মাতবর বিষয়টি সমাধানে গরিমশি করছেন। মূলত তাদের কারণেই আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এখন তারা দ্বিতীয় বিয়ে করানোর জন্য আমার স্বামীর পেছনে লেগেছে। বিয়ের খবর পেয়েই আমি ওই বাড়িতে যাই।

“আমি যাওয়ার পরে বিয়ে বন্ধ করে আমার স্বামীকে ফেলে তার অণ্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “আমার স্বামী বিদেশে থাকা অবস্থায় আমার দুই মেয়ের জামাইদের পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছি; যা আমার স্বামীকে তখনও জানাইনি। এছাড়া কয়েক বছরে আমার মেয়েদের উচ্চাভিলাসী চাহিদা পূরণেও অনেক টাকা খরচ হয়। এ জন্যই টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি শুরু হতে থাকে।"

একই বাড়িতে বসবাস করা রহম আলীর আপন চাচাতো বড় ভাই হারেজ দেওয়ানের স্ত্রী বিলকিস বেগম জানান, "মেয়েদের ভোগবিলাসিতার জন্যই আমার জা বেহিসাবি টাকা পয়সা খরচ করেছেন। এটাকে কেন্দ্র করে এবং সমাজের কিছু কুচক্রী মানুষের কারণে আজ সে সংসার ছাড়া।"

শরিক বাড়ির প্রতিবেশী ইউনুস দেওয়ানের স্ত্রী কোহিনুর বলেন, "ওই গৃহবধূ তার মেয়েদের জন্যই তার স্বামীর টাকা খরচ করেছে। অথচ আজ মেয়েরা এখন তার মাকে দোষ দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, দুই মেয়ের জামাইয়ের পেছনেও অনেক টাকা খরচ করেছেন তিনি।"

রহম আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া বার বার ফোন দিলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে  রহম আলী দেওয়ানের ছোট মেয়ে বলেন, “আমার মা বাবার জমি লিখে নিয়েছে।  আমরা বাবার সাথে আছি।”

এ বিষয়ে সমাজের মাতব্বর জাফর আলী জানান, "শিবালয় উপজেলায় ইউপি নির্বাচন ৩১ জানুয়ারি। নির্বাচন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ নির্বাচনের দুএকদিন পর এটা নিয়ে আমরা বসব।"

হরিরামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, "অনশনের খবর পেয়ে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"