শারদ হাওয়ায় ঋতুবদলের আমেজ

কেরানীগঞ্জের সারিঘাটে কাশফুলের মাঝে চলছে ছবি তোলার পর্ব। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
স্নিগ্ধ সকাল, রোদেলা দুপুর আর বিকালে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। পঞ্জিকার পাতা বলছে, শরৎ এখন মধ্যবয়সী।

শরতের এ আবহাওয়ায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তি, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমও অনুভূত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য থাকছে বেশ, ভোরের দিকে থাকছে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব।

রাজধানী ঢাকায় শরতের আমেজ ততটা স্পষ্ট হতে পারে না, তবে মফস্বলের আবহাওয়ায় পার্থক্যটা বোঝা যায় বেশ। বগুড়া আবহাওয়া অফিস বুধবার সারা দিনে যে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে, তাতে সন্ধ্যা ৬টায় থার্মোমিটারের পারদ ছিল ৩১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, রাত ৯টায় তা কমে হয় ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাত ১২টায় ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর রাত ৩টায় ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় পারদ নেমে যায় ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, শরতের এই সময়ে ভোরের দিকে তাপমাত্রা দিনের তুলনায় প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাচ্ছে। যেদিন বৃষ্টি হচ্ছে, সেদিন তাপমাত্রার পার্থক্য আরেকটু বাড়ছে।

তাপমাত্রার এই বদলে জ্বর, সর্দি, কাশি হচ্ছে অনেকের। বিশেষ করে বাচ্চারা বেশি সমস্যায় পড়ছে।

আবহাওয়াবিদ শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, “আশ্বিনের শুরু হল মাত্র। শরতের এমন আবহাওয়ায় যেন হেমন্তের আমেজ, ঋতু  পরিবর্তনের আভাস। এমন সময়ে তাপমাত্রার তারতম্য থাকেই। সাগরে যে নিম্নচাপ হয়েছিল, তার প্রভাবও কেটে গেছে। কোথা বৃষ্টি হচ্ছে, তবে টানা বৃষ্টি নেই।”

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হারুনুর রশীদ বলেন, “তাপমাত্রার পার্থক্য এখন দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে সারা দেশেই অনুভূত হবে। ঋতু পবির্তনের সময়ে অসুস্থতা এড়াতে নিজেদের যত্নবান হতে হবে।

“এ সময় বাচ্চাদের দিকে আলাদা করে নজর দিন। যাদের ছোট বাচ্চা আছে, অথবা আগে থেকেই ঠাণ্ডার সমস্যা আছে, তারা ফ্যান পুরো না ছেড়ে অথবা মশারির উপরে বাড়তি কাপড় দিয়ে ঘুমাতে পারেন। আর না হয় কাঁথা বা হালকা চাদর নিতে পারেন রাতে শোয়ার সময়।”

শুক্রবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক ‍জায়গায় এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এক এলাকায় অস্থয়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লায় দেশের সর্বোচ্চ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সৈয়দপুরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আগামী তিন দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।