দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত জানা যাবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আদালতের অনুমতি নেওয়া সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর।

হাই কোর্টের তিনটি রায় ও দুটি আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এই রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ।

এর মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলগুলো পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সেই সাথে হাই কোর্টের আদেশ সংশোধন করা হয়েছে। আর হাই কোর্টের অন্তবর্তী অদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে।    

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেয়।

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করা হল এবং হাই কোর্টের রায় সংশোধন করা হল। আশা করি রায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। আর অন্তবর্তী আদেশ বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হল। সেক্ষেত্রে হাই কোর্টের বিচারাধীন রুলও নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।”

তবে হাই কোর্টের রায়ে কী সংশোধন করা হয়েছে, আর কী পর্যবেক্ষণ থাকছে, তা উন্মুক্ত আদালতে ঘোষণা করেননি প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশ যেতে অনুমতি সংক্রান্ত হাই কোর্টের তিনটি রায় ও দুটি আদেশের বিরুদ্ধে দুদক পাঁচটি লিভ টু আপিল দায়ের করেছিল।

গত ৭ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি শুরু হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত সোমবার রায়ের জন্য রাখে।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান এবং এ কে এম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

আর যেসব রিট আবেদনে হাই কোর্টের ওই রায় এসেছিল, সেই রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মুরাদ রেজা, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরশাদুর রউফ ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

দেশত্যাগে দুদকের বাধার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর মো. আতাউর রহমানের করা এই রিট মামলার শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ রায় দেয় হাই কোর্ট।

তাতে বলা হয়, এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে, অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কারো বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে দুদককে।

অন্যদিকে, পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. আহসান হাবিব নামের এক ব্যক্তির রিটের চূড়ান্ত শুনানির পর গত ১৪ মার্চ রায় দেয় হাই কোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ।

ওই রায়ে বলা হয়, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলার সময় জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে বা পাসপোর্ট জব্দ করলে কমিশন বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরে জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ বা বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হবে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশন আদালতে এমন আবেদন করলে বিশেষ জজ ওই আবেদন যত দ্রুত সম্ভব বা আবেদন গ্রহণের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।

এছাড়া বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাফসির আউয়াল আরেকটি রিট করেছিলেন। সিই রিটে গত মাসে হাই কোর্ট রুল দিয়ে তিন মাসের জন্য তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়। 

এ রকম আরও একটি রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আলাদা পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। সেসব লিভ টু আপিলের শুনানির পর রায় দিল সর্বোচ্চ আদালত।