প্রেস ক্লাব মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিল: আমান

রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিয়েছে, তার সমালোচনা করেছেন নব্বইয়ের ডাকসুসহ তৎকালীন একদল ছাত্রনেতা।

বৃহস্পতিবার ‘নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’ ব্যানারে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আমানউল্লাহ আমান বলেন, এর মধ্য দিয়ে প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিল।

গত ১০ অক্টোবর ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘বিশৃঙ্খল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলির’ প্রেক্ষিতে বুধবার প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

আমান বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাব অতীতে জাতির নানা সঙ্কটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার অবারিত সুযোগ জাতীয় প্রেস ক্লাব কখনই হরণ করেনি।

“ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রেস ক্লাবের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে যেমন ভূলুণ্ঠিত করল, তেমনি বর্তমান স্বৈরাচারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী বিনা ভোটের নিশিরাতের সরকারের রাজনীতি-গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য তৎপরতাকেই সহযোগিতা করল।”

গত ১০ অক্টোবর জেহাদ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীনের ‘কটাক্ষপূর্ণ’ বিবৃতির নিন্দাও জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান।

তিনি বলেন, “একজন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া কিংবা মামলার রায় হলেই তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসতে পারবেন না কিংবা জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিডিও কনফারেন্সেও কথা বলতে পারবেন না, এটা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

“বরং দোষী, নির্দোষী, পক্ষ কিংবা বিপক্ষ যে কোনো ব্যক্তি প্রেস ক্লাবে আসবেন, তাদের মতামত ব্যক্ত করবেন, বক্তব্য তুলে ধরবেন, এটাই রীতি।”

১৯৭৭ সাল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক জাতীয় প্রেস ক্লাবের জায়গা স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া, ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস ক্লাবের বহুতল ভবনের ভিত্তিস্থাপনের কথাও বলেন আমান।

তিনি বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাব হবে বহুমত ও বহুপথের মানুষের মিলন কেন্দ্র, মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন মত প্রকাশের নির্ভরযোগ্য অঙ্গন। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ও জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে জাতীয় প্রেসক্লাব ছিল আন্দোলন0কারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য স্থান।

“আজকে আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, একটি মহল এই প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমতাসীনদের একটি তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, যা দেশের আপামর বিবেকবান মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে।”

আমানের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজুলল হক মিলনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নব্বইয়ের ছাত্রনেতাদের মধ্যে ছিলেন শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, জহিরউদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, রুহুল কবির রিজভী, আসাদুর রহমান খান আসাদ, কামরুজ্জামান রতন, আবদুল মালেক, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান মিন্টু, যুবদলের সাবেক নেতা কাইয়ুম চৌধুরী ও ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।