রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জার্মানিসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

জার্মানি সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে  জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সাথে তার সরকারি বাসভবন বেলভ্যু প্যালেসে সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান ও জাতিসংঘে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য জার্মান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

“রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহবান জানান তিনি।”

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে স্বাধীনতার পর থেকে জার্মানির সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশে করোনাভাইরারেস টিকা ও মেডিকেল সরঞ্জাম অনুদান হিসেবে পাঠানোর জন্য জার্মান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশ এবং জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক ‘অত্যন্ত চমৎকার’ যা দিন দিন ‘সম্প্রসারিত’ হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জার্মান বিনিয়োগের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

প্রেস সচিব বলেন, “রাষ্ট্রপতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জার্মানি ও ইউরোপ ইউনিয়নের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদার মনোভাব পোষণ করবে।"

জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু প্রফেসরিয়াল ফেলোশিপ চালু করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সহজ করার আহ্বান জানান। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির ফলে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী প্রদানের জন্য জার্মান প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

প্রেস সচিব বলেন, "বাংলাদেশের সাথে জার্মানির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে জার্মান প্রেসিডেন্ট দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।"

মহামারী নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে জার্মান প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে তার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে দুই রাষ্ট্রপ্রধান আন্তর্জাতিক রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানান প্রেস সচিব।

গত ৯ অক্টোবর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জার্মানির বার্লিনে যান রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যের লন্ডন হয়ে ২২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সাক্ষাতের সময়  রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন এবং জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।