তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বাংলাদেশে বেশি: প্রজ্ঞা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ আগের মতোই সবচেয়ে বেশি বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক-২০২১’ এ বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ৭২। গত বছর যা ৬৮ ছিল।

রোববার এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশে সূচকে অবনতি ঘটেছে।

জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

 অনুষ্ঠানে বলা হয়, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এবারও সবচেয়ে বেশি।”

সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এর আলোকে একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই গবেষণা চালায়।

প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এই গবেষণার ফলাফল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “কোভিডের চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত করার ঘোষণাকে ধারণ করছে কি না, সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।”

খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, “হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেটা কেন?”

তিনি বিএটিবি’র সরকারি শেয়ার প্রত্যাহার এবং তামাকের ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি টিভি টুডে’র প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, গ্লোবাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্স ইন টোবাকো কন্ট্রোল- জিজিটিসি হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি মেরি আসুন্তা, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস’র বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)- বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)’র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, দি ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো: হাসান শাহরিয়ার।