দেড় শতাধিক চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ৮

দেড় শতাধিক চোরাই মোবাইলসহ ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আট সদস্যকে’ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। 

বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার জানান, মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিবির উত্তরা বিভাগের জোনাল টিমের বিশেষ অভিযানে ওই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মনির হোসেন (২৮), মো. মোতাহার হোসেন (৫৫), মো. সুরুজ হোসেন (২২), মো. শাহজালাল (২৩), মো. মেহেদী হাসান (২০), কুমার সানি (২৫), মো. হৃদয় (২৫) ও শামীম ওসমান (১৯)। 

তাদের কাছ থেকে ১৫৮টি মোবাইল সেট ছাড়াও একটি ল্যাপটপ এবং নগদ এক লাখ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল চুরিসহ সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা ‘স্বীকার করেছে’।

“চুরি হওয়া মোবাইলগুলো তিনবার হাত বদল হয়। প্রথম ধাপে যে চুরি করে সে মোবাইলভেদে চার থেকে আট হাজার টাকায় টেকনিশিয়ান বা কোনো চোরাইফোন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়।” দ্বিতীয় ধাপে দেখা হয় ওই ফোনে 'পার্সওয়ার্ড' বা 'ফাইন্ড ইওর ফোন' অপশনটি চালু আছে কি না। তা থাকলে মোবাইলের ডিসপ্লে ও কেসিং উচ্চমূল্যে বিক্রি করে করে দেন ওই টেকনিশিয়ান বা চোরাই ফোন ক্রেতা।

আর এসব অপশন চালু না থাকলে তৃতীয় ধাপে 'আইএমইআই' নম্বর পরিবর্তন করা হয়। এরপর আইফোনের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ও অন্য ফোনগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, গত ২৯ এপ্রিল উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন অযুখানা থেকে চুরি হয়। ১৬ মে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

হাফিজ আক্তার বলেন, "এরপর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা জোনাল টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার সাথে গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্টতা পায়। এবং মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।"

অল্প টাকায় দামি ফোন ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িতদের হুঁশিয়ার করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পুরাতন মোবাইল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছে চোরাই মোবাইল থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। যারা বিক্রি করে তারাও অপরাধী।"

বিক্রেতাদের 'এসব কাজ' থেকে সরে আসার আহ্বান রেখে কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, “চোরাই মোবাইল বিক্রি হয় বলেই চোর ও ছিনতাইকারীরা এসব কর্মকাণ্ড করতে উৎসাহী হয়। চোরাই মোবাইল বিক্রি করা ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং হবে।”

চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইলফোনগুলো সহজে বিক্রি করার জন্য ভারতেও পাচার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান হাফিজ আক্তার।