মেঘনায় সেলিমের বালু উত্তোলন বন্ধই থাকছে

চাঁদপুরের ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানকে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলন করার অনুমতি দিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

এর ফলে চার বছর আগের রায় অনুযায়ী মেঘনা থেকে তার বালু তোলার আর সুযোগ থাকছে না।

রোববার রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের ২১টি মৌজা এলাকায় মেঘনা নদীতে ‘জনস্বার্থে’ নিজ খরচে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে তিনি একটি রিট করেছিলেন।

ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল হাই কোর্ট তাকে বালু উত্তোলনের পক্ষে রায় দেয়। ওইসব এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু গত ৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবদনে হাই কোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ। বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়।

রোববার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। আর সেলিম খানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি।

মাঈনুল হাসান পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় বাতিল করার ফলে মেঘনা নদী থেকে সেলিম খানের বালি তোলার আর কোনো সুযোগ থাকল না।”

তিনি বলেন, “বালু উত্তোলন করতে হলে এর আগে সেই এলাকা বালু মহাল ঘোষণা করতে হয় এবং এর জন্য কিছু আইনগত পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতির অংশ হিসেবে অংশীজনদের মতামত নিতে হয়।

“কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এই পদ্ধতি গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের, সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের।”

সেখানে কোনো বালু মহাল ঘোষণা হয়নি জানিয়ে মাঈনুল বলেন, “কোনো ইজারা পদ্ধতিও গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু মেঘনা নদীর ওই এলাকায় সকল নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে সেলিম খান হাই কোর্টের রায় নিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।

“এসব বিধান আমরা আদালতে উপস্থাপন করার পর আদালত শুনেছে, উনাদের বক্তব্য শুনে তারপর আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে আদেশ দিয়েছে।”