পটিয়ায় ইসলাম ধর্ম নিয়ে সংঘর্ষ, আগুন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ধর্মাচার নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে জখম, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। (আরো তথ্যসহ)
চট্টগ্রাম, জানুয়ারি ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- চট্টগ্রামের পটিয়ায় ধর্মাচার নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে জখম, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পশ্চিম পটিয়ার ফকিরনির হাটে বায়তুল ইকরাম জামে মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কট্টরপন্থী বলে পরিচিত ভারতের দেওবন্দ অনুসারী পটিয়ার জামেয়া মাদ্রাসা প্রভাবিত এলাকাটিতে দুই দল মুসলমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

দমকল কর্মকর্তারা জানায়, সংঘর্ষকারীরা অন্তত নয়টি দোকান ও আটটি বসতঘরে আগুন দেয়।

চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধও করে রাখে তারা।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নামাজের পর শাহ আমীরপুর ও জুলধা গ্রামের মুসল্লিদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

মসজিদের কর্তৃত্ব এবং ইমাম ঠিক করা নিয়ে সংঘর্ষের শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্ণফুলী থানার ওসি আমিনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সুন্নি ও ওয়াহাবীদের এ সংঘর্ষ হয়।"

পটিয়া মাদ্রাসার অনুসারী কট্টরপন্থীরা এলাকায় ওয়াহাবী বলে পরিচিত। উপমহাদেশে কথিত ইসলাম ধর্ম সংস্কারের অন্যতম ধারার এই অনুসারীরা সুফিবাদী ধারাকে ঘিরে চর্চিত ধর্মীয় অনেক আচার অনুষ্ঠানকে ধর্ম সম্মত নয় বলে মনে করে।

এলাকায় সুন্নি বলে পরিচিতরা উপমহাদেশের ঐতিহ্য মেনে ধর্মাচার পালন করে।

এলাকাবাসী জানায়, ৪০ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এর কর্তৃত্ব নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলে আসছে।

ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাড়িতে দুইপক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠকে বসেন।

পটিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল আউয়াল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৈঠকে কয়েকদিনের মধ্যে স্থানীয় সাংসদ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু'র উপস্থিতিতে বৈঠক করে কর্তৃত্ব ও ইমামতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়। ততদিন পর্যন্ত মসজিদের পাশে একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি থাকবে।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক জানিয়ে এএসপি আউয়াল বলেন, ঘটনাস্থলে বর্তমানে ১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ মামলা করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশের এএসপি আউয়াল জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/কেএমএস/১৯৩৭ ঘ.