ক্ষতির দায় বিজেএমসির ওপর চাপালেন পাটমন্ত্রী

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বছরের পর বছর লোকসানের জন্য বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনকেই (বিজেএমসি) দায়ী করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

এর মধ্যে শুধু ভারতের পাট রপ্তানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটির কারণে সরকারের চার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিও বিজেএমসির কারণে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর ঘোষণার পর শুক্রবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাড়িতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানটা (বিজেএমসি) ….যেটা ১০০ টাকা কস্ট পড়ে, আমাদের দেশে সেটা ৭০ টাকা বিক্রি করতে হয়। যে কারণে ভারত আমাদের উপর অ্যান্টি ডাম্পিং (ডিউটি) দিয়েছে।

“এর ৩০ টাকার জন্য আমাদের স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ৩০ টাকা লস, গভর্নমেন্টের ফান্ড থেকে যায়। অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের কারণে আমরা ৪ হাজার কোটি টাকা ভারতে এক্সপোর্টে হারিয়েছি একমাত্র বিজেএমসির কারণে।”

সরকারি পাটকলের মজুরি বেসরকারি পাটকলের তুলনায় তিনগুণ দাবি করে পাটমন্ত্রী বলেন, “এখন যারা বেসরকারি মিল যারা করছে, তারা বেসরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ওয়ার্ল্ড মার্কেটে টিকে আছে। আমরা খালি ভর্তুকি আর ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু একটির পর একটি লস দিয়ে যাচ্ছি।”

পাওনা বুঝিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত

৮টি পাট ও বস্ত্রকল ফের সরকারের অধীনে

বিজেএমসির এসব প্রসঙ্গে অবতারণা হতেই পাশে বসা সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মন্ত্রীকে সংবাদ সম্মেলন শেষ করার তাগাদা দিচ্ছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার দেশের সব পাটকল জাতীয়করণ করে। ১৯৭২ সালে ৭৮টি পাটকল নিয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) যাত্রা শুরু হয়।

পরে ৩৫টি মিল সাবেক মালিকদের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। বিজেএমসির হাতে এখন আছে ২৬টি মিল, যার মধ্যে মনোয়ারা জুট মিল ছাড়া সবগুলোতেই উৎপাদন চলছে।

এসব কারখানায় ২৪ হাজার ৮৬৬ জন স্থায়ী শ্রমিকের বাইরে তালিকাভুক্ত ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক আছে প্রায় ২৬ হাজার।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর ঘোষণার পর শুক্রবার রাজধানী সিদ্দেশ্বরীর বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ দেখাতে পারলেও বিজেএমসির আওতাধীন মিলগুলো বছরের পর বছর লোকসান করে যাচ্ছে, যার পেছনে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এই ২৬টি মিল গত ৪৮ বছরের মধ্যে কেবল ৪ বছর কিছুটা লাভ দেখাতে পেরেছিল। বাকি ৪৪ বছরই বিজেএমসি অব্যাহতভাবে লোকসান দিয়ে গেছে।

ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী কর্মচারীর চাকরি গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নরসিংদীর পলাশের ফৌজি চটকল জুট মিলস লিমিটেড, মাদারীপুরের এ আর হাওলাদার জুট মিলস লিমিটেড, ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড এবং গাউছিয়া জুট মিলস লিমিটেড সরকার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছিল।

কিন্তু হস্তান্তর চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় এবং উৎপাদন বন্ধ রাখায় ২০১৭ সালে সেগুলো আবার ফিরিয়ে নেয় সরকার।

পাটকল শ্রমিকদের পাওনা যেভাবে শোধ করা হবে

সরকার এখন যে প্রাইভেট-পাবলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিজেএমসির অধীনে থাকা ২৬টি পাটকল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কীভাবে পরিচালনা করবে তার ব্যাখ্যাও দেন পাটমন্ত্রী।

পাটমন্ত্রী জানান, কোনো পাটকল বিক্রি করা হবে না। প্রথমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) চালানোর চেষ্টা করা হবে। তা দীর্ঘায়িত হলে তাড়াতাড়ি চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

“তবে আমাদের মালিকানার কিন্তু শরিক থাকবে। এখানে কোনো বাইরের মালিকানা আসবে না, অংশীদারিত্ব থাকতে পারে।”

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেপ্টেম্বরে চলতি অর্থ বছরের বাজেটের টাকা ছাড় হলে তারা তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝে পাবেন।

শ্রমিকদের টাকা পেতে কোনো অনিয়ম হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,  “পরিষ্কারভাবে কাজ হবে। কোনো দালাল থাকবে না।  একটি লোকও যাতে বাদ না পরে, আমরা কালকেই বলে দিয়েছি। ”

''