সম্মাননায় বই কিংবা গাছ কেন নয়, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর

সম্মাননা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া ক্রেস্টগুলো পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় এর পরিবর্তে উপহার হিসেবে বই কিংবা গাছ কেন দেওয়া হয় না সে প্রশ্ন রেখেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সটির ২১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে সরে আসার তাগিদ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একটু আগেই আমাদের হাতে অনেক বড়, ভীষণ ভারী, খুবই সুন্দর দেখতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হল। ক্রেস্টের ভারে আসলেই আমরা ভারাক্রান্ত।

“আর এই ক্রেস্টগুলো যেসব উপাদানে তৈরি, সেগুলো পরিবেশবান্ধব নয়। বোধহয় কয়েকশ বছরেও এগুলো গলবে না। আগে ক্রেস্ট তাও ছোট-খাট ছিল। এখন ক্রমাগত তার আকার, আয়তন, ভার সবকিছু বাড়ছে।”

বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “যদি সম্মাননা জানাতেই চাই এবং সম্মাননার নিদর্শন হিসেবে কিছু একটা হাতে তুলে দিতেই চাই, তাহলে সেটা কেন একটা বই বা ছোট একটা গাছ নয়?

“আর কেউ যদি উদ্ভাবন করতে পারেন, বায়োডিগ্রেডেবল উপাদান দিয়ে তৈরি ক্রেস্ট, তাহলে চলতে পারে।”

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ১ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া অনন্য মেধাবী দুইজন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় স্বর্ণ পদক।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এইচএসসি পাসের পর শিক্ষর্থীদের যদি মাঝখানে একটা বছর বাদ যায় বা সে অন্য কিছু পড়ে আসতে চায়, সেখানে সুযোগ দেওয়া হয় না অনেক ক্ষেত্রেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সেই সুযোগ নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব বয়সের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী।

“বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমি আহ্বান জানাব, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের পথ যেন বন্ধ করে না দেই। বিশ্ববিদ্যালয় হবে উদার। আর পদে পদে যেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করি। বিদেশে সব বয়সী শিক্ষার্থীদের একসাথে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে। এতে জ্ঞানের আদান-প্রদানের ফলে সমৃদ্ধ হওয়া যায়।”

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব বিষয় এবং বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ওপর জোর দেন দীপু মনি।

“কোভিড পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি অনেক পরির্বতিত হয়েছে। তাই, চলমান পৃথিবীর সাথে তাল মেলানোর পাশাপাশি আগামী দিনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে শিক্ষাখাতকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং এই মাষ্টারপ্ল্যানে ই-লার্নিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

স্নাতকদের কর্ম উপযোগী করে গড়ে তুলতে ‘সফট স্কিলস’ শেখানোরও তাগিদ দেন তিনি।

বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, “আমরা ধারণা করেই নেই, কম মেধাবী ও অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, এটা ঠিক নয়।

“তারা ডিপ্লোমা করে ভাল রেজাল্ট করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে ভর্তি হবে। শুধুমাত্র ডুয়েট ছাড়া কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না তারা।”

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এটাকে মূল বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সে দ্বার খুলে দেয়া উচিত।”

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপার্চায এমিরেটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম, ইস্ট ওয়েস্ট ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শহিদুল হাসান।