সমালোচনার জবাব মাঠেই দিতে চায় বাংলাদেশ

ঘোর অমানিশায় পড়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। স্নায়ু চাপের পরীক্ষায় উতরে আপাতত এড়ানো গেছে তা। তবে এরপরই শুরু গেছে বিতর্কের ঝড়। তাতে অনেকটাই যেন আড়াল মাঠের ক্রিকেট। এসবের মধ্যেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের আসল লড়াই, যেখানে প্রথম প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ দল বুঝে নিয়েছে, জবাবটা দিতে হবে মাঠেই।

শারজাহতে রোববার ১ নম্বর গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহর দল। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা চারটায়।

প্রথম রাউন্ডে প্রত্যাশিত ক্রিকেট খেললে এই ম্যাচ বাংলাদেশের খেলা হতো না। এই গ্রুপেই তো থাকা হতো না। প্রাথমিক পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারে ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের ধাপে আসে দল।

ওই হারে শঙ্কা জেগেছিল প্রাথমিক পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার। চাপে থাকা ক্রিকেটারদের স্নায়ু চাপ আরও বাড়িয়ে দেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান। ৬ রানে হেরে যাওয়ার পর কাঠগড়ায় তোলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটার সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিককে।

কাটা গায়ে নুনের ছিটে কারও ভালো লাগার কথা নয়। লাগেনি ক্রিকেটারদেরও। কথা বলায় নানা বিধি-নিষেধ থাকায় সেভাবে তারা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। কিছুটা ক্ষোভের ইঙ্গিত মেলে পাপুয়া নিউ গিনিকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকা নিশ্চিত করার পর মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলনে।

সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়ে আসার আভাস দিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বললেন, এখন তারা মন দিতে চান মাঠের ক্রিকেটে। 

“মানুষ কী বলছে বা লিখছে, তা নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা নিজেদের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিতে পারি, নিজেদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে পারি। কোন কোন জায়গায় উন্নতি করা প্রয়োজন, সেটা অনুভব করতে পারি।”

“যখন বাইরের সমালোচনার মতো ব্যাপারগুলোতে মনোযোগ দিতে হয়, তখন আমাদের আসলেই মনোযোগ সরে যায়। কোথায় মনোযোগ দিতে হবে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ ও কড়া কথা হয়েছে। মনোযোগ দেওয়ার জায়গাটা হলো ক্রিকেট।” 

প্রথম রাউন্ডের চেয়ে এবার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। আরও শক্তিশালী সব দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা দিতে হবে। তবে ওমানের চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। ওমানের উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন সহায়তা ছিল না, লড়াই করতে হয়েছে শিশিরের সঙ্গে। এবার বাংলাদেশের সব ম্যাচ স্থানীয় সময় দুপুরে এবং এমন উইকেটে, যেখানে স্পিনারদের জন্য বেশ সুবিধা আছে। বাড়তি স্পিনার খেলানোর কথাও এখন ভাবতে পারে বাংলাদেশ। এই সুবিধাকে অনেক বড় করে দেখছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

“বেলা ২টায় ম্যাচ শুরু হওয়া নিয়ে আমরা খুশি। এটা আমাদের জন্য দারুণ মানানসই। এজন্য শিশির পুরোপুরি হিসাবের বাইরে চলে গেছে। আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনাররা এই পর্বে খুব ভালো করবে। আমরা জানি, অনেক দল শিশির নিয়ে প্রচুর ভাবছে।”

শারজাহর উইকেট দেখে মিরপুরের উইকেটের কথাই মনে পড়ছে ডমিঙ্গোর। ততটা স্পিন ধরলে সাকিব-মেহেদি হাসান এবং সুযোগ পেলে নাসুম আহমেদ কী করতে পারেন, তা জানা আছে বাংলাদেশ কোচের। লঙ্কান স্পিনারদেরও এমন উইকেটে ভালো না করার কোনো কারণ নেই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তারা সেটা করেও দেখিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার বোলারদের নিয়ে অতটা ভাবছে না বাংলাদেশ। ডমিঙ্গোর ভাবনা নিজের দলকে নিয়েই।

“গত কয়েক মাসে (ভানিন্দু) হাসারাঙ্গার বিপক্ষে আমরা কয়েকটা ম্যাচ খেলেছি। তার সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা আছে।” 

“আমাদের খুব ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল আছে যেটায় দক্ষ সব বোলার ও কয়েকজন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান আছে। সাকিবের মতো বিশ্বমানের অলরাউন্ডার আছে আমাদের। আমিরাতের কন্ডিশন আমাদের জন্য মানানসই।”

সুখী পরিবার, টুর্নামেন্টের শুরুতে বাংলাদেশ দল নিয়ে বলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তা হয়ত ছিলও। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারার পর তেমনটা আর নেই। মাঠের ভালো পারফরম্যান্সেই আবার সুখী পরিবার হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ। এর প্রথম ধাপ শ্রীলঙ্কা ম্যাচ।