‘মাঝেমধ্যে সূর্য দেরিতে ওঠে’, ওয়ার্নারকে নিয়ে কাইফ

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক সাফল্যের নায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে মাঝে দেখা দেয় রান-খরা। আইপিএলে নেতৃত্বের সঙ্গে একাদশেও জায়গা হারান তিনি। তবে যথাসময়ে তিনি যে ঠিকই জ্বলে উঠবেন, বিশ্বাসটা ছিল অনেকের। তাইতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার সাফল্য দেখে ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ কাইফ যেন বলতে চাইলেন, এটা তো হওয়ারই ছিল।

বিশ্বকাপের আগে সময়টা আসলেই পক্ষে ছিল না ওয়ার্নারের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল পুনরায় শুরুর পর দুটি ম্যাচ খেলার পরই জায়গা হারান সানরাইজার্স হায়দরাবাদের একাদশে। অথচ এই ফ্র্যাঞ্চাইজির একমাত্র শিরোপা তার নেতৃত্বে, এই দলের হয়ে তার ব্যাটিং ও নেতৃত্বের রেকর্ড দুর্দান্ত।

বিশ্ব মঞ্চে শুরুতেও নিষ্প্রভ ছিল তার ব্যাট। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হন মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই। ভারতের বিপক্ষে করেন স্রেফ ১ রান। মূল পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করতে পারেন ১৪ বলে ১৫। এরপরই তার স্বরূপে ফেরার শুরু।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই রান তাড়ায় ৪২ বলে খেলেন ৬৫ রানের দারুণ ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওয়ার্নার অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন মাত্র ৫৬ বলে। সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৩০ বলে ৪৯। ফাইনালেও হেসেছে ওয়ার্নারের ব্যাট। নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি শিরোপা ঘরে তুলতে দলের হয়ে তিনি খেলেন ৩৮ বলে ৫৩ রানের ইনিংস।

সব মিলিয়ে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ৭ ইনিংসে ৪৮.১৬ গড় আর ১৪৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে রান ২৮৯। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস তিনটি।

এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। টুইট করে ৪০ বছর বয়সী কাইফ সোমবার বললেন, হার না মানা মানসিকতায় এই স্বীকৃতি ধরা দিয়েছে ওয়ার্নারের হাতে।

“জীবনের মতো খেলাধুলাতেও কখনও হার মানা যাবে না। আইপিএলে ভালো না করা ডেভিড ওয়ার্নার স্রেফ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়ে গেল। মাঝেমধ্যে সূর্য একটু দেরিতে ওঠে।”