‘লিটন আজকে দেখিয়েছে, সে ক্লাস ব্যাটসম্যান’

তুমুল প্রতিভাবান, কিন্তু চরম অধরাবাহিক। বাংলাদেশের ক্রিকেটে লিটন দাসের পরিচয় এক লাইনে বলতে গেলে এমনই। নিজের জাত তিনি নানা সময় দেখিয়েছেন। তবে সেই দিনগুলি এত লম্বা বিরতির পর আসে যে অনেকেই তা ভুলে যান। তেমন একটি দিন এলো আবার। যে দিনের শেষে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স বললেন, লিটনের জাত নিয়ে আর কারও সংশয় থাকার কথা নয়।

২৫ টেস্টে সেঞ্চুরিবিহীন যাত্রার পর অবশেষে লিটন পৌঁছতে পেরেছেন শতরানের গন্তব্যে। পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন শেষে তিনি অপরাজিত ১১৩ রানে।

এ দিন যখন উইকেটে যান তিনি, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ২০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন লিটন। যে জুটিতে তিনিই ছিলেন অগ্রণী।

লিটন ছন্দে থাকা মানে প্রতিপক্ষের বোলারদের অসহায়ত্ব। ১১ চার ও ১ ছক্কার এই ইনিংসেও যথারীতি শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি, নুমান আলিদের ম্লান করে দেন তিনি। ৬৭ রানে আলগা শটে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান একবার, এছাড়া আর একবারও নড়বড়ে মনে হয়নি তাকে।

বড় ইনিংস তার ব্যাট থেকে নিয়মিত আসে না বলে সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। তবে এই ইনিংসের পর আর প্রশ্ন থাকা উচিত নয় বলেই মনে করেন ব্যাটিং কোচ প্রিন্স।

“আজকে যারা লিটন দাসকে ব্যাট করতে দেখেছে, কোনো সংশয় ছাড়াই তাদের বোঝার কথা, সে ক্লাস ব্যাটসম্যান। সেটি কেউ বুঝতে না পারলে, আমি জানি না আর কী বুঝতে পারবে…। আজকে ছেলেটি দেখিয়েছে যে সে ক্লাস ব্যাটসম্যান।”

শুধু দলের বিপর্যয় আর প্রতিপক্ষের বোলারদের সামাল দেওয়াই নয়, লিটনকে এ দিন লড়াই করতে হয়েছে নিজের শরীরের সঙ্গেও। শেষ সেশনে এক পর্যায়ে ক্র্যাম্প করে তার হাতে। অস্বস্তিও ফুটে উঠছিল বারবার। তবে ভেঙে না পড়ে তিনি মাঠ ছাড়েন দিনের খেলা শেষে। এখানেও তাকে বাড়তি কৃতিত্ব দিচ্ছেন প্রিন্স।

“লিটন আজকে যতটা গোছানো ও ধীরস্থির ছিল, আমার তা দারুণ লেগেছে। সে যখন ক্র্যাম্প করতে শুরু করেছিল, সবাই (ড্রেসিং রুমে) তখন নার্ভাস হয়ে উঠছিল। আমরা স্রেফ আশা করছিলাম, আজকের দিনটি যেন সে শেষ করে আসতে পারে। পরে দিন শেষে আইস বাথ, কিছু লিকুইড নিয়ে রিকভারি করতে পারবে এবং আশা করি, কালকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে।”