নিউ জিল্যান্ডকে রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ দিল ভারত

শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষায় ভারত-নিউ জিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। ছবি: আইসিসি।
টেস্ট অভিষেকটা দুর্দান্তভাবে রাঙালেন শ্রেয়াস আইয়ার। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ভাগে ফিফটি করে গড়লেন অনন্য এক কীর্তি। তার ও ঋদ্ধিমান সাহার কার্যকর দুটি ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডকে রেকর্ড গড়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ভারত।

কানপুর টেস্টে রোববার ৭ উইকেটে ২৩৪ রান করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ২৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান তুলতেই উইল ইয়াংকে হারিয়েছে সফরকারীরা।

পঞ্চম ও শেষ দিনে ভারতের প্রয়োজন ৯ উইকেট, আর নিউ জিল্যান্ডের চাই ২৮০ রান। মন্থর উইকেট, ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন। সঙ্গে মিলছে স্পিনারদের দারুণ সহায়তা। এমন কঠিন কন্ডিশনে শেষ দিনে কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং কিউইদের জন্য।

ম্যাচটি জিততে হলে নিউ জিল্যান্ডকে গড়তে হবে ভারতের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। এখানে ২৮০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কোনো প্রতিপক্ষের। আড়াইশ রানের বেশি লক্ষ্যে জয় আছে কেবল একটি; ১৯৮৭ সালে ২৭৬ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দিনের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া ভারতকে পথ দেখান শ্রেয়াস। প্রথম ইনিংসে ১০৫ রানের পর এবার খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করা একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। ঋদ্ধিমান অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে।

১ উইকেটে ১৪ রান নিয়ে খেলতে নামা ভারতকে শুরুতেই চেপে ধরে নিউ জিল্যান্ড। দিনের সপ্তম ওভারে চেতেশ্বর পুজারাকে কট বিহাইন্ড করে দেন কাইল জেমিসন। রিভিউ নিয়ে ২২ রান করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে ফেরায় সফরকারীরা।

প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু পেলেও এবার পুরোপুরি ব্যর্থ অজিঙ্কা রাহানে। বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ককে এলবিডব্লিউ করে দেন কেবল ৪ রানে।

এরপর টিম সাউদির ছোবল। এক ওভারে জোড়া শিকার ধরেন নিউ জিল্যান্ড পেসার। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। এক বল পর এলবিডব্লিউ হয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা।

৫১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে ভারত, হাল ধরেন শ্রেয়াস। খাদের কিনারে থাকা দলকে টেনে তোলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে নিয়ে। তাদের ব্যাটে কঠিন প্রথম সেশন পার করে ভারত।

লাঞ্চ বিরতির পর আবার ভারত শিবিরে আঘাত হানেন জেমিসন। তার শর্ট বল পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান অশ্বিন (৫ চারে ৩২)। তার বিদায়ে ভাঙে ৫২ রানের জুটি।

তৃতীয় দিন চোটের কারণে ফিল্ডিংয়ে না নামা ঋদ্ধিমান ফেরেন ব্যাট হাতে। তাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন শ্রেয়াস। দুইজনের জুটিতে ভারতের রান পেরিয়ে যায় দেড়শ।

শ্রেয়াস ১০৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। থিতু এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে চা বিরতিতে যায় নিউ জিল্যান্ড। সাউদির শর্ট বল পুলের চেষ্টায় কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ৮ চার ও এক ছক্কায় ৬৫ রান করা শ্রেয়াস। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৪ রানের জুটি।

এরপর আর দলকে বিপদে পড়তে দেননি ঋদ্ধিমান ও আকসার প্যাটেল। তাদের সৌজন্যে ভারতের রান দুইশ পেরিয়ে আড়াইশতে চোখ রাখে। ১১৫ বলে ফিফটি তুলে নেন ঋদ্ধিমান। এক বছর পর টেস্টের একাদশে ফেরা এই কিপার-ব্যাটসম্যান ২০১৭ সালের পর পেলেন পঞ্চাশের স্বাদ।

আকসারের সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। ৬৭ রানের এই অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ভারত। ঋদ্ধিমান তখন খেলছিলেন ৬১ রানে, আর আকসার ২৮।

যে লক্ষ্যে দিনের শেষ দিকে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত, তাদের সেই চাওয়া পূরণও হয়েছে। মাত্র চার ওভার বোলিং করেই প্রতিপক্ষের একটি উইকেট তুলে নিয়েছে তারা।

তিনশর কাছাকাছি রান তাড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইল ইয়াংকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান প্রথম ইনিংস ৮৯ রান করা এই ওপেনার।

টম ল্যাথামের সঙ্গে এখন উইকেটে আছেন নাইটওয়াচম্যান উইলিয়াম সমারভিল। শেষ দিনে নিউ জিল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ৩৪৫

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৬

ভারত ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৪/১) ৮১ ওভারে ২৩৪/৭ ডিক্লে: (মায়াঙ্ক ১৭, শুবমান ১, পুজারা ২২, রাহানে ৪, শ্রেয়াস ৬৫, জাদেজা ০, অশ্বিন ৩২, ঋদ্ধিমান ৬১*, আকসার ২৮*; সাউদি ২২-২-৭৫-৩, জেমিসন ১৭-৬-৪০-৩, এজাজ ১৭-৩-৬০-১, রাচিন ৯-৩-১৭-০, সমারভিল ১৬-২-৩৮-০)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৮৪) ৪ ওভারে ৪/১ (ল্যাথাম ২*, ইয়াং ২, সমারভিল ০*; অশ্বিন ২-০-৩-১, আকসার ২-১-১-০)।