আইপিএলে ক্রিকেটার ধোনিই থাকছেন চেন্নাইয়ে

আইপিএলের শিরোপা হাতে মহেন্দ্র সিং ধোনি। ছবি: বিসিসিআই।
আইপিএলের আগামী আসরে মহেন্দ্র সিং ধোনির খেলা নিয়ে সংশয় অনেকটাই কেটে গেল। মেগা নিলামের আগে ভারতের সাবেক অধিনায়ককে ধরে রেখেছে চেন্নাই সুপার কিংস।

ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার পর আট ফ্র্যাঞ্চাইজির ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

গত আসর থেকে প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সর্বোচ্চ চার জন খেলোয়াড় (সর্বোচ্চ দুই জন বিদেশিসহ) ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ধোনির সঙ্গে চেন্নাই ধরে রেখেছে রবীন্দ্র জাদেজা, রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও মইন আলিকে।

১৬ ম্যাচে ৬৩৫ রান করে রুতুরাজ ছিলেন গত আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার গত আসরেই শেষের আভাস দিয়েছিলেন ধোনি। চেন্নাই অধিনায়ক নিজেই বলেছিলেন, আগামী আসরে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা।

চেন্নাইয়ের কর্তারা অবশ্য নানা সময়ই বলেছেন, ধোনি যতদিন চান, এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রাখা হবে তাকে। তবে ব্যাট হাতে তার কার্যকারিতা অনেক কমে গেছে। গত দুই মৌসুমে রান করতে পারেননি প্রত্যাশা অনুযায়ী।

যদিও নেতৃত্বে ধোনি আগের মতোই কার্যকর। তার অধিনায়কত্বে সবশেষ আসরেও শিরোপা ঘরে তোলে চেন্নাই। আইপিএলে যা তাদের চতুর্থ শিরোপা।

গত দুই বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যে কেবল আইপিএলই খেলছেন ধোনি। ২০১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সবশেষ ম্যাচ খেলার এক বছরের বেশি সময় পর ২০২০ সালের অগাস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

৪০ বছর বয়সী ধোনিকে আগামী আইপিএলেও যে ব্যাট-প্যাড পরে মাঠে নামতে দেখা যাবে, তা নিশ্চিত হয়ে গেল চেন্নাই তাকে ধরে রাখায়।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর ধরে রেখেছে গত আসরে দলটির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া বিরাট কোহলিকে। যেখানে তার সঙ্গী গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মোহাম্মদ সিরাজ। আইপিএলের ২০১১ আসর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স কিছুদিন আগে বিদায় বলেন সব ধরনের ক্রিকেটকে।

গত আইপিএলে শুরুতে অধিনায়কত্ব ও পরে একাদশে জায়গা হারানো ডেভিড ওয়ার্নারকে ছেড়ে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তারা ছেড়ে দিয়েছে আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান ও ইংলিশ কিপার-ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টোকেও।

কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে হায়দরাবাদ ধরে রেখেছে আব্দুল সামাদ ও উমরান মালিককে। গত আসরে গতির ঝড় তুলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন জন্মু ও কাশ্মীরের ২২ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার উমরান।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছেড়ে দিয়েছে হার্দিক পান্ডিয়াকে। ভারতের এই অলরাউন্ডার গত আসরে বোলিং করেননি। স্বাভাবিকভাবেই মুম্বাই ধরে রেখেছে তাদের সফলতম অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে। তার সঙ্গে রেখে দিয়েছে জাসপ্রিত বুমরাহ, কাইরন পোলার্ড ও সূর্যকুমার যাদবকে।

আইপিএলের আগামী আসর হবে ১০ দল নিয়ে। গত মাসে নতুন দল হিসেবে আহমেদাবাদ ও লক্ষ্ণৌর নাম ঘোষণা করা হয়। ১২ হাজার কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছে এই দুই দলের মালিকানা।

নিলামের সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে নতুন দুই ফ্রাঞ্চাইজি তিন জন করে খেলোয়াড় দলে টানতে পারবে।  

নিলামে প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজি খরচ করতে পারবে সর্বোচ্চ ৯০ কোটি রুপি। আগের আসর থেকে যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চার জন খেলোয়াড় ধরে রাখে তাহলে ওই ৯০ কোটি থেকে কাটা হবে ৪২ কোটি রুপি। এই ৪২ কোটি রুপির মধ্যে প্রথম ধরে রাখা খেলোয়াড় পাবে ১৬ কোটি, দ্বিতীয়জন ১২ কোটি, তৃতীয়জন ৮ কোটি আর চতুর্থজন পাবে ৬ কোটি রুপি। বাকি ৪৮ কোটি রুপি খরচ করা যাবে নিলামে।

সেক্ষেত্রে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তিন জন খেলোয়াড় ধরে রাখলে ৩৩ কোটি, দুই জন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ২৪ কোটি, আর একজন খেলোয়াড় ধরে রাখলে কাটা হবে ১৪ কোটি রুপি।      

ধরে রাখা খেলোয়াড়দের তালিকা:

চেন্নাই সুপার কিংস: রবীন্দ্র জাদেজা (১৬ কোটি রুপি), মহেন্দ্র সিং ধোনি (১২ কোটি), রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৮ কোটি), মইন আলি (৬ কোটি)।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: রোহিত শর্মা (১৬ কোটি), জাসপ্রিত বুমরাহ (১২ কোটি), সূর্যকুমার যাদব (৮ কোটি), কাইরন পোলার্ড (৬ কোটি)।

দিল্লি ক্যাপিটালস: রিশাভ পান্ত (১৬ কোটি), আকসার প্যাটেল (৯ কোটি), পৃথ্বী শ (৭.৫ কোটি), আনরিক নরকিয়া (৬.৫ কোটি)

কলকাতা নাইট রাইডার্স: আন্দ্রে রাসেল (১২ কোটি), বরুন চক্রবর্তী (৮ কোটি), ভেঙ্কাটেশ আইয়ার (৮ কোটি), সুনিল নারাইন (৬ কোটি)।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর: বিরাট কোহলি (১৫ কোটি), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১১ কোটি), মোহাম্মদ সিরাজ (৭ কোটি)।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: কেন উইলিয়ামসন (১৪ কোটি), আব্দুল সামাদ (৪ কোটি), উমরান মালিক (৪ কোটি)।

রাজস্থান রয়্যালস: সাঞ্জু স্যামসন (১৪ কোটি), জস বাটলার (১০ কোটি), যাশাসবি জয়সওয়াল (৪ কোটি)।

পাঞ্জাব কিংস: মায়াঙ্ক আগারওয়াল (১৪ কোটি), আর্শদিপ সিং (৪ কোটি)।