মিরপুর টেস্টে শুরুর জুটিতে সাদমানের সঙ্গী কে

ব্যাটে নেই রান, টেকনিকের ঘাটতিও প্রকাশ্য। সব মিলিয়ে একাদশে জায়গা এমনিতেই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল সাইফ হাসানের। সঙ্গে যোগ হলো টাইফয়েড। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তাই খেলা হচ্ছে না এই ওপেনারের। মিরপুর টেস্টের আগে তাই বাংলাদেশ দলের জন্য বড় প্রশ্ন, সাদমান ইসলামের উদ্বোধনী জুটি সঙ্গী কে?

আপাতত তিনটি বিকল্প আছে বাংলাদেশ দলের জন্য। সাদমানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারেন মাহমুদুল হাসান জয়, মোহাম্মদ নাঈম শেখ কিংবা নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন জনের যে কেউ সুযোগ পেলেই তা হবে নতুন অভিজ্ঞতা। মাহমুদুলের এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাওয়া হয়নি, নাঈম খেলেননি টেস্ট ক্রিকেট। শান্ত ১০ টেস্ট খেললেও কখনও ওপেন করেননি।

চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়ক মুমিনুল হক জানিয়েছিলেন, প্রথমবার সুযোগ পাওয়া তরুণ ব্যাটসম্যান মাহমুদুলকে তারা বিকল্প ওপেনার হিসেবেই ভাবছেন। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে মাহমুদুল সাধারণত ওপেন করেন না।

শান্তর বিভিন্ন সংস্করণে ওপেন করার অভিজ্ঞতা আছে। তবে টেস্টে ওপেন করার পরীক্ষাই তো সবচেয়ে কঠিন, যে অভিজ্ঞতা তার নেই।

মিরপুর টেস্টের দলে বড় চমক বলা যায় নাঈমের ডাক পাওয়া। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রেকর্ড খুব একটা ভালো নয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। গত ২১ মাসে এই সংস্করণে কোনো ম্যাচও খেলেননি।

সাধারণ সমীকরণে সাইফের জায়গাটা নেওয়ার লড়াই হওয়ার কথা মাহমুদুল ও নাঈমের। তবে শান্তও সেখানে বিবেচনায় আছেন প্রবলভাবে। চোট কাটিয়ে সাকিব আল হাসান ফিরছেন মিরপুর টেস্টে। তাকে জায়গা দিতে হয়তো একজন ব্যাটসম্যানকেই বাদ দিতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে শান্তকে তিন নম্বর থেকে ওপেনিংয়ে তুলে আনার সম্ভাবনা আছে যথেষ্টই।

বাংলাদেশ দলের অন্তর্বর্তীকালীন ফিল্ডিং কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের কথায়ও সেরকম ইঙ্গিত। বিসিবির ভিডিও বার্তায় তিনি বললেন মাহমুদুল ও শান্তর কথাই।

“চট্টগ্রাম টেস্টে দুই ইনিংসেই টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ভালো করতে পারিনি। তবে এখান থেকে আমাদের ওপেনাররা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। কীভাবে খেলা যায়, বুঝতে পেরেছে। ওরা অনেক দিন পর টেস্ট খেলছে।”

“মিরপুর টেস্টে কারা ওপেন করবে জানি না। সাদমান প্রথম পছন্দ। অন্যদের মধ্যে জয় (মাহমুদুল) এসেছে নতুন। জাতীয় লিগে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। তার হয়তো একটা সুযোগ আসবে। শান্ত শ্রীলঙ্কার পর এখানে খেলছে (জিম্বাবুয়েতেও ছিলেন)। শ্রীলঙ্কাতে খুব ভালো করেছে। হয়তো নতুন বলটা তারাই খেলবে। আশা করি, তারা মিরপুরে নতুন বল খুব ভালোভাবে সামলাতে পারবে। তাদের মধ্যে সেই আগ্রহটা আমি দেখতে পেয়েছি। তারা কষ্ট করছে।”

চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং কোনোটাতেই নতুন বল সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম নতুন বলে কোনো ইনিংসেই মেলেনি উইকেট। নিজেরা প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা। মিরপুর টেস্টে নতুন বলে দুই বিভাগেই উন্নতি দেখতে চাইলেন সাবেক পেসার মিজানুর।

“ব্যাটিং ও বোলিংয়ে যদি নতুন বলটা যদি আরেকটু ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি (তাহলে খুব ভালো হবে)। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে যদি নতুন বলটা ভালোভাবে খেলতে পারি সময় নিয়ে এবং বোলিংয়েও যদি নতুন বলটা আরেকটু ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আশা করি আমরা মিরপুরে খুব ভালো করব।” 

মিরপুর টেস্ট শুরু শনিবার থেকে। প্রথম টেস্ট সিরিজে সিরিজে এগিয়ে আছে পাকিস্তান।