ডাবল হ্যাটট্রিকে বয়েসের ইতিহাস

আগের ওভারে শেষ বলে নিলেন উইকেট। নিজের পরের ওভারে প্রথম তিন বলে আরও তিনটি। ইতিহাসের পাতায় জায়গা পেয়ে গেলেন ক্যামেরন বয়েস। বিগ ব্যাশের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে করলেন ‘ডাবল হ্যাটট্রিক।’

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বুধবার মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন বয়েস। ৩২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার ৪ ওভারে স্রেফ ২১ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। বিগ ব্যাশে রেনেগেডসের কোনো বোলারের সেরা বোলিং এটি।

সপ্তম ওভারে বল হাতে পান বয়েস। বিধ্বংসী হয়ে ওঠা অ্যালেক্স হেলসকে ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলা এই বোলার। ছক্কার চেষ্টায় লং অফে ধরা পড়েন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

বয়েসের পরের ওভারে প্রথম বলে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হয়ে ফেরেন জ্যাসন সাঙ্গা। দ্বিতীয় বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় এলবিডব্লিউ অ্যালেক্স রস। বয়েস মাতেন হ্যাটট্রিকের উৎসবে। তৃতীয় বলে ড্যানিয়েল স্যামসকেও এলবিডব্লিউ করে তিনি পূর্ণ করেন ডাবল হ্যাটট্রিক।

২০ ওভারের ক্রিকেটে ৪ বলে ৪ উইকেট নেওয়ার দশম ঘটনা এটি। ক্রিকেটের পরিভাষায় যাকে বলে ডাবল হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি আছে কেবল আফগানিস্তানের রশিদ খান, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ও আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্পারের।

নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে বয়েস পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। তার বোলিং ফিগার তখন ২.১-০-৭-৫!

তার কোটার শেষ ওভারেও পড়েছে উইকেট। সেখানেও কৃতিত্ব বয়েসের। তাকে ড্রাইভ করেন উসমান খাওয়াজা। বোলারের হাত ছুঁয়ে বল লাগে স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকার বেন কাটিং তখন বাইরে, রান আউট।

পরে ব্যাট হাতেও নায়ক হওয়ার সুযোগ এসেছিল বয়সের সামনে। ১৭১ রান তাড়ায় শেষ বলে তাদের দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু আট নম্বরে নামা বয়েস ক্যাচ দেন পয়েন্টে।

উসমান খাওয়াজার ৫১ বলে ৭৭ রানের সাহায্যে ৮ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহ পায় থান্ডার। জবাবে ৭ উইকেটে ১৬৯ রান শেষ হয় রেনেগেডসের ইনিংস। ১ রানের নাটকীয় জয় পায় সিডনি থান্ডার।