মাহমুদুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ

নিউ জিল্যান্ডে অসাধারণ ইনিংসটিতে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা আর অবিশ্বাস্য ধৈর্য দিয়ে মাহমুদুল হাসান জয় ছাপ রেখেছিলেন টেস্ট টেম্পারমেন্টের। এবার বিপিএলে অভিষেকে তিনি দেখালেন তার টি-টোয়েন্টি সামর্থ্যের ঝলক। টেস্টের ইনিংসটি দূর থেকে অনুসরণ করেছিলেন স্টিভ রোডস। বিপিএলের ইনিংসটি দেখলেন কাছ থেকে। এই ব্যাটসম্যানশিপ দেখে মুগ্ধ বাংলাদেশের সাবেক কোচ বললেন, তরুণ ব্যাটসম্যানের অপেক্ষায় আলো ঝলমলে ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের উঠতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এখন মাহমুদুল। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেমি-ফাইনালে সেঞ্চুরি করা এই ক্রিকেটার পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ও হাই পারফরম্যান্স দলের হয়ে প্রমাণ রাখেন নিজের এগিয়ে চলার। গত নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশ টেস্ট দলে ডাক পান জাতীয় লিগে দারুণ পারফরম্যান্সের পর।

টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে পারেননি ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তবে দ্বিতীয় টেস্টেই নিউ জিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের সামনে প্রায় ৫ ঘণ্টা উইকেট আঁকড়ে খেলেন ৭৮ রানের ইনিংস। ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়ায় বড় ভূমিকা ছিল ওই ইনিংসের।

আঙুলের চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে যান তিনি। নিউ জিল্যান্ডে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি। বিপিএলে কুমিল্লার প্রথম ম্যাচেও ছিলেন একাদশের বাইরে। অবশেষে তার মাঠে ফেরার অপেক্ষার অবসান হলো মঙ্গলবার। বিপিএল অভিষেকে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে খেললেন ৩৫ বলে ৪৮ রানের দারুণ ইনিংস।

বরিশালের বোলিং লাইন আপে ছিল সাকিব আল হাসান, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলামের মতো তারকারা। কিন্তু মাহমুদুলকে নড়বড়ে মনে হয়নি একটুও। পরে ক্যারিবিয়ান তারকা ডোয়াইন ব্রাভো ও ইংলিশ চায়নাম্যান বোলার জেইক লিন্টটের সামনেও তিনি ছেলেন সাবলিল।

এমনিতে মাহমুদুল প্রথাগত ঘরানার ব্যাটসম্যান। অনেক সময়ই একটু সময় নেন, ঠাণ্ডা মাথায় ইনিংস গড়েন। কিন্তু বিপিএলে নিজের প্রথম ইনিংসে টি-টোয়েন্টির দাবি মিটিয়েই খেলেন কার্যকর ইনিংস।

গতবছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতেও অবশ্য নিজেকে মেলে ধরেছিলেন মাহমুদুল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯২ রান করেছিলেন ৪৩.৫৫ গড় ও ১২১.৩৬ স্ট্রাইক রেটে। এবার টি-টোয়েন্টির আরও বড় মঞ্চে তার শুরুটা হলো আশা জাগানিয়া।

নজর কেড়েছেন তিনি রোডসেরও। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর অনেকটা অপমানজনকভাবে তার বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার পরও, এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পরামর্শক হয়ে আসার পর তিনি জানান, গত আড়াই বছরে অনেক আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে মাহমুদুলের ব্যাটিং তিনি দেখেছিলেন। এবার বিপিএল দলে নেটে ও ম্যাচ দেখলেন কাছ থেকে।

মাহমুদুলের ব্যাটিং ও ব্যক্তিত্বের অনেক কিছুই মনে কেড়েছে রোডসের। তার মতে, আন্তর্জাতিক আঙিনায় আলো ছড়ানোর উপকরণ আছে এই তরুণের।

“তার মধ্যে একটা ধীরস্থির ব্যাপার আছে। সে শান্ত থাকে। খুব একটা অস্থির মনে হয় না তাকে কখনোই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ও বিপিএলে তার ক্যারিয়ারের মাত্রই শুরু। ভবিষ্যতের জন্য সে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় একজন। দারুণ স্ট্রোকমেকার সে, স্লগ না করেই ভালো গতিতে রান তুলতে পারে।”

“নিজের আলাদা বিশেষত্ব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সে। নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচে ভালো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে সে দলের জয়ের ভিত গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। খুব ভালো ক্রিকেটার হওয়ার উপযুক্ত উপকরণ তার আছে।”

নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচের পর চোটাঘাত ও বিরতি শেষে টি-টোয়েন্টিতে মানিয়ে নেওয়া সহজ কথা নয়। রোডসের ধারণা, মাহমুদুলের ইনিংসটি অবাক করেছে অনেককেই।

“আজকে সে কিছু লোককে চমকে দিয়েছে। অনেক সময়ই এরকম হয়, তরুণ ক্রিকেটাররা বিস্ময় উপহার দেয়। দলে এসেই ভালো করে। আজকে সে এরকম কিছুই করেছে। ইনিংসটি দারুণ ছিল।”