৬ বছর পর দ.আফ্রিকা দলে হার্মার

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল সম্ভাবনাময়। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা সাইমন হার্মারকে ঠেলে দিয়েছিল দেশের বাইরে। পরে কলপ্যাক চুক্তি করে কাউন্টি ক্রিকেটে পাড়ি জমিয়ে স্বপ্ন দেখেন ইংল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ার গড়ার। কিন্তু পটপরিবর্তনে সেই স্বপ্নও যায় হারিয়ে। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতে হলো শেকড়ের কাছেই। জন্মভূমির হয়েই ৬ বছর পর আবার আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফেরার পথে এই অফ স্পিনার।

নিউ জিল্যান্ড সফরে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা দলে বড় চমক হার্মার। ৩২ বছর বয়সী স্পিনার সুযোগ পেয়েছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডা বিয়ের জন্য ছুটি পাওয়ায়।

২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৫টি টেস্ট খেলে ২০ উইকেট নেন হার্মার। ৫ উইকেট না পেলেও ইনিংসে ৪ উইকেট ছিল ৩ বার।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত রেকর্ডের পরও নানা কারণে আর সুযোগ পাননি। এক পর্যায়ে দেশের ক্রিকেটের কোটা পদ্ধতি, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা আর আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১৭ সালে এসেক্সের সঙ্গে কলপ্যাক চুক্তি করে ছেড়ে যান দেশ। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিক অসাধারণ পারফরম্যান্সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার।

সবশেষ টেস্ট খেলার পর ইংল্যান্ডে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬১ ম্যাচে ৩০৩টি উইকেট হার্মারের। এই সময়ে সেখানে তার চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি আর কেউ। ২০১৯ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২০ সালে বব উইলিস ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলে সমাপ্তি ঘটে কলপ্যাক যুগের। একই সঙ্গে ইতি হার্মারের স্বপ্নেরও। ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবশ্য এসেক্সের সঙ্গে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে চুক্তি আছে তার।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ফিরেও বল হাতে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন হার্মার। চলতি মৌসুমে ঘরোয়া চারদিনের ম্যাচের ফ্র্যাঞ্চাইজি সিরিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। তার ২৭ উইকেটের চেয়ে বেশি নিয়েছেন কেবল ডুয়ানে অলিভিয়ের।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ১৭০ ম্যাচে ৭২৬ উইকেট হার্মারের। ৪২ বার নিয়েছেন ইনিংসে ৫ উইকেট। ২টি সেঞ্চুরিতে রান করেছেন সাড়ে ৪ হাজারের বেশি।

কলপ্যাক চুক্তিতে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার কোটা পদ্ধতি নিয়ে হার্মার ছিলেন সোচ্চার। কলপ্যাক ক্রিকেটারদের প্রতি দেশের মানুষ ও ক্রিকেট প্রশাসকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও তিনি কথা বলেছেন নানা সময়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে বদলের আভাস মিলছে।

কলপ্যাক চুক্তিতে গিয়ে আবার দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ফিরে আসা তৃতীয় ক্রিকেটার হার্মার। তার আগে ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেন ওয়েন পারনেল ও টেস্ট দিয়ে অলিভিয়ের।

হার্মারের ফেরার সিরিজে দলে ফিরেছেন লুথো সিপামলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ও ঘরের মাঠে ভারত সিরিজে ছিলেন না এই পেসার। তবে চোটের কারণে আরও একটি সিরিজে নেই আনরিক নরকিয়া। মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফেরার আশা করছেন এই ফাস্ট বোলার।

সবশেষ ভারত সিরিজের দল থেকে নিউ জিল্যান্ড সফরে নেই প্রেনেলান সাব্রায়েন, বিউরান হেনড্রিকস ও সিসান্ডা মাগালা। স্পিনিং অলরাউন্ডার সাব্রায়েন বিবেচনায় আসেননি কুঁচকির চোটের কারণে।

নিউ জিল্যান্ডের উদ্দেশে আগামী বুধবার দেশ ছাড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা। অনুশীলনের অনুমতি পাওয়ার আগে তাদেরকে থাকতে হবে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে।

সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু ১৭ ফেব্রুয়ারি, ক্রাইস্টচার্চে। দ্বিতীয়টি ওয়েলিংটনে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজ।

দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট দল: ডিল এলগার (অধিনায়ক), টেম্বা বাভুমা, সারেল এরউইয়া, সাইমন হার্মার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশভ মহারাজ, এইডেন মারক্রাম, ভিয়ান মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি, ডুয়ানে অলিভিয়ের, কিগান পিটারসেন, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, লুথো সিপামলা, গ্লেন্টন স্টুয়ারম্যান, রাসি ফন ডার ডাসেন, কাইল ভেরেইনা।