খাল-নালা আবর্জনামুক্ত রাখতে চাই সামাজিক আন্দোলন: নওফেল

চট্টগ্রামের খাল-নালা আবর্জনামুক্ত রাখতে সামাজিক আন্দোলন চান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আর একাজে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের উপর নবনির্মিত সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাংসদ নওফেল দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আসুন সাংগঠনিকভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু আমরা গৃহস্থালি আবর্জনা যদি আবার এই খালে ফেলি, মুখের মাস্ক, বর্জ্য-ময়লা যদি ফেলি, তাহলে এই কাজ টেকসই হবে না।

“যত হাজার কোটি টাকাই থাকুক কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে সমস্ত বর্জ্য আবার পড়বে। তাই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান, আপনাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ মানুষের অভ্যাস-সামাজিক কার্যকলাপে আপনারাই সব থেকে বেশি প্রভাবিত করতে পারেন।”

খাল-নালা পরিচ্ছন্ন রেখে পানিপ্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার উপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী নওফেল।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজে সমন্বয় দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে নওফেল আশা প্রকাশ করেন, আগামী বর্ষায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এই প্রকল্পে সমন্বয় সাধিত হওয়ায় সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ সব সেবা সংস্থার প্রধানদের ধন্যবাদ জানান উপমন্ত্রী নওফেল।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র নেওয়া খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

২০১৭ সালের ১ জুলাই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রবর্তক মোড়ের পুরনো কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রবর্তক মোড়ের নতুন সেতুটি আগের তুলনায় আট দশমিক ২ ফুট উঁচু করা হয়েছে। প্রশস্ততা সাড়ে চার মিটার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে সাড়ে ছয় মিটার।

প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের উপর এই সেতু নির্মাণে বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত চারতলা ভবনটিও ভাঙা হয় ২০১৯ সালের অগাস্টে।

চট্টগ্রামের প্রয়াত সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদে ২০০০ সালে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের একাংশ দখল করে চারতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এটি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যায়ের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর নিচতলা ছিল ১৩টি দোকান।

ভবনটি নির্মাণের সময় বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরোধিতা করা হলেও তা মানা হয়নি।

এরপর এই ভবনের অদূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পশ্চিম গেট সংলগ্ন অংশে হিজড়া খালের উপর ছয়তলা আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সেটি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে ব্যবহৃত হত। খালে পানি চলাচল বাধাহীন করতে সেটিও ভাঙা চলছে।  

গত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দর নগরীতে জলাবদ্ধতার সময় প্রবর্তক মোড়ে বুক সমান উচ্চতায় পানি জমে থাকে। হিজড়া খালের উপর প্রিমিয়ারের প্রশাসনিক ভবনটির কারণে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিডিএ’র চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন এবং প্রকল্প পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী উপস্থিত ছিলেন।