খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের ঝাঁঝ রসুনেও লাগছে

চট্টগ্রামের বাজারে পেঁয়াজের পর রসুনের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

আমদানি কম হওয়া এবং ডলারের দাম বাড়াকে রসুনের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন পাইকাররা।

চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চীন থেকে আমদানি করা সাদা রসুন মানভেদে সোমবার বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত।

এক সপ্তাহ আগেও এই বাজারে রসুনের দাম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।

বাংলাদেশে চীন থেকে আমদানি করা রসুনই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। দেশি জাতের রসুন বাজারে মিললেও আকারে ছোট হওয়ায় এর চাহিদা কম। মোট চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দেশি জাতের রসুন দিয়ে মেটে।

আমদানি করা রসুনের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশি জাতের উপরও। রোববার খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে দেশি রসুন বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। সাত দিন আগেও এর দর ছিল কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে।

খাতুনগঞ্জের রসুনের আড়তদার বলাই পোদ্দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমদানিকারকদের কাছ থেকে রসুন কম পাচ্ছি। সেকারণে দামও বাড়তি। সরকার পেঁয়াজের মতো আমদানি অনুমতি (আইপি) বন্ধ না করলেও দাম বাড়ছে।

“রসুনের সরবরাহ প্রায় নির্ভর করে চীন থেকে আমদানির ওপর। আমদানিকারকরা সরবরাহ কমের অজুহাত দিয়ে দাম বাড়তি নিচ্ছে। আমাদের কেনা যেভাবে পড়ছে, সেভাবেই বিক্রি করছি।”

সোমবার খাতুনগঞ্জের আড়তে বেশি সাদা রসুন (চাইনিজ) প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়েছে মানভেদে ১২৭ থেকে ১৩৫ টাকায়, কম সাদা রসুন ১৩৫ থেকে ১৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও এ দর ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

ফাইল ছবি

সোমবার নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারের রসুনের খুচরা দোকানি আবদুল হামিদ সাদা রসুন বিক্রি করছিলেন ১৫০ টাকায়। শনিবারে এ রসুন তিনি বিক্রি করেছিলেন ১৩০ টাকায়।

নগরীর মোমিন রোডের খুচরা দোকানি মো. শরিফ চীনা রসুন বিক্রি করছিলেন ১৪০ থেকে দেড়শ টাকায়। চেরাগী পাহাড় এলাকার মুদির দোকান লাকী স্টোরে চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছিল দেড়শ টাকায়। 

এক খুচরা দোকানি বলেন, “আমরা যেভাবে পণ্য আড়ত থেকে আনি, তার সাথে মিল রেখে খুচরায় বিক্রি করতে হয়। পাইকারিতে দাম কমলে খুচরাতেও দাম কমবে।”

খাতুনগঞ্জের পেয়াজ-রসুনের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চীন থেকে আমদানি কম হওয়ায় এবং ডলারের দাম বাড়ার কারণে রসুনের দাম বাড়তি বলে জেনেছি।

“বাজারে পর্যাপ্ত মাল নাই। সেকারণে আড়তগুলোতে সরবরাহও কম হচ্ছে।”

অন্য এক আড়তদার বলেন, “বিদেশ থেকে রসুন আমদানির পর একটি পক্ষ সেসব কিনে নিয়ে পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন। তাদের দেওয়া দরেই প্রতিদিন পাইকারিতে দাম ওঠানামা নির্ভর করে থাকে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আড়তদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের মুখাপেক্ষী হয়েই আমাদের ব্যবসা করতে হয়। সেকারণে সরবরাহ ও দরের ক্ষেত্রে তাদের উপরই আমরা নির্ভরশীল।

“এছাড়া আমদানিকারকরা আগে পণ্য আনার জন্য এলসি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামের উপর।”

আগামী কয়েকদিনে রসুনের দর আরও চড়বে বলে আভাস দেন তিনি।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশি পেঁয়াজের যোগান বেশি। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

পেঁয়াজের বাজারও চড়া

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দরও বাড়তিরে দিকেই। সরকার আমদানির অনুমতি বন্ধ করায় সপ্তাহখানেক ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

সোমবার খাতুনগঞ্জের আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। রোজার ঈদের আগে তা ২৫ থেকে ২৮ টাকা ছিল।

দেশি জাতের পেঁয়াজ সোমবার মানভেদে বিক্রি হচ্ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। ঈদের আগে সে দর ছিল প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা।

চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারে খূচরা দোকানে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকয় বিক্রি হতে দেখা যায়। নগরীর বিভিন্ন মুদির দোকানেও ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশী পেঁয়াজের উৎপাদনকদের কথা মাথায় রেখে সরকার আমদানি অনুমতি বন্ধ করেছে। সেকারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনা বন্ধ আছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত দেশি জাতের পেঁয়াজ আছে। সেকারণে সঙ্কট হবে না।

তিনি বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় আড়ত থেকে পণ্য বিক্রিও কমে গেছে কিছুটা। আগে আমার আড়তে গড়ে ৫০ কেজির ১০০ বস্তা বিক্রি হলেও এখন তা ৮০ বস্তায় নেমেছে।”