সিনেমা বানাতে প্রথমবার মহাকাশে রাশিয়া

হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজকে পেছনে ফেলে সিনেমার দৃশ্য ধারণ করতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন রাশিয়ার এক অভিনেত্রী ও একজন চলচ্চিত্র পরিচালক।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় ‘দ্য চ্যালেঞ্জ’ নামে ওই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য রুশ অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কো মঙ্গলবার মহাশূন্যের পথে যাত্রা করেন।  

সিনেমায় পেরসিল্ড একজন চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করবেন; একজন নভোচারীর প্রাণ রক্ষার জন্য যাকে মহাকাশ স্টেশনে যেতে বলা হয়। মহাকাশচারী অন্য ক্রুদেরও এ সিনেমায় দেখা যাবে।

মহাকাশে পেরেসিল্ড এবং শিপেঙ্কোর ১২ দিনের এই অভিযাত্রায় তাদের সঙ্গে দুজন পেশাদার নভোচারী রয়েছেন।

কাজাখস্তানের কাছে বাইকনুর নভোযান উড্ডয়ন কেন্দ্র থেকে তাদের নিয়ে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-১৯ মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথের উদ্দেশে রওনা দেয়। মস্কোর স্থানীয় সময় বুধবার ৩টা ১২ মিনিটে তাদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর কথা।

ছয় ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ক্লিম শিপেঙ্কোর জন্য ছোট একটি ক্যাপসুলে করে এই মহাকাশ যাত্রা হবে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহ নিয়েও একটি ধারাবাহিক করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তিনি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশপ্রেমের আবহে উড্ডয়নের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্প্রচার করে। উড্ডয়নের ক্ষণ গণনা থেকে শুরু করে প্রতিটি মুহূর্তের সর্বশেষ খবর তুলে ধরে দেশটির টিভি স্টেশন চ্যানেল ওয়ান।

রুশ অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কোর মাঝে মহাকাশে তাদের সঙ্গী নভোচারী আন্তন স্কাপলেরভ। রয়টার্স

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “মহাকাশে আমরাই অগ্রপথিক এবং যত যাই হোক, আমরা এখনও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস রাখি।

“হ্যাঁ, অন্যরাও আমাদের পায়ে পায়েই চলছে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই ভালো কিছুর জন্য। আমাদের দেশের জন্য এ ধরনের ফ্লাইট, যা আমাদের অর্জনকে জনপ্রিয় করেছে, মহাকাশ নিয়ে মৌলিক চিন্তার জন্যও এটা সুখবর।”    

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে মহাকাশে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ফেলে এগিয়ে গেল রাশিয়া।

হলিউডের একটি সিনেমার জন্য স্পেসএক্সের রকেট নিয়ে অভিনেতা টম ক্রজ মহাকাশে যাবেন বলে গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তবে সেই সিনেমার নাম এখনও ঠিক হয়নি।

দুর্ঘটনা আর দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে রাশিয়ার মহাকাশ কার্যক্রম বেশ কবছর ধরে কিছুটা থিতিয়ে ছিল। অন্যদিকে ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোসের মত ধনী ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানিগুলো নতুন নতুন মহাকাশযান তৈরি করেছে।

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার এই প্রতিযোগিতার সূচনা সেই স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে। মস্কো প্রথম স্যাটেলাইট এবং প্রথম মানুষকে মহাকাশে পাঠালেও চাঁদে সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে সেসব ছাপিয়ে যায় নাসা।

তবে দুই দেশই এখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরস্পরকে সহযোগিতা করছে। সেখানে দশকের পর দশক ধরে পাশাপাশি অবস্থান করছেন দুই দেশের মহাকাশচারীরা।