হার্ট দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি উঠেছে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে।

‘হৃদয় দিয়ে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার পালিত হবে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়েবিনার আয়োজন করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)। এতে সহযোগিতা করে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর(জিএইচএআই)।

ওয়েবিনারে বক্তাদের উদ্ধৃত করে প্রজ্ঞার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবিলম্বে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করা না গেলে ট্রান্সফাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তেই থাকবে।

“পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। আর ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য দিয়ে ওয়েবিনারে বলা হয়, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল হলে তা অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আশা করা হচ্ছে, সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করবে।”

জিএইচএআই’র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, “খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করতে না পারলে দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে, চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।”

তরুণরা ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার বেশি খেয়ে থাকে উল্লেখ করে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “খাদ্যদ্রব্য থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করা না গেলে তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”

ওয়েবিনারে জানানো হয়, ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।

২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকার ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা কোনো খাদ্যে মোট ফ্যাটের দুই শতাংশ নির্ধারণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও তা কার্যকর এখনও হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১” খসড়া প্রণয়ন করেছে। এটি এখনও চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।