এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা একশর নিচে

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে স্যালাইন হাতে একজন ডেঙ্গু রোগীকে মঙ্গলবার হাঁটতে দেখা যায়। ছবি: কাজী সালাহউদ্দিন রাজু
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৭২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ১২৯ জন রোগী এইডিশ মশাবাহিত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশ কমেছে।

এ বছর জুলাইয়ের পর থেকে চোখ রাঙাতে থাকা ডেঙ্গু রোগী নভেম্বরে এসে কমতে শুরু করেছে। এ মাসে সেই সংখ্যা ১০০ থেকে ১৮০ এর মধ্যে ওঠানামা করছিল। শুক্রবার সেই সংখ্যা ৭২ জনে নেমে এসেছে।

এর আগে অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সবেচেয়ে বেশি। এরপর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে তা কিছুটা কমতে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হওয়া ৭২ জনের ৭০ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

অপরদিকে গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর আসেনি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫১৭ জন ডেঙ্গু রোগী, যাদের ৪২৩ জনই ঢাকা মহানগরীর। অন্যান্য বিভাগে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ২৬ হাজার ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৫৮৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৯৮ জন।

ডেঙ্গু রোগী ২৫ হাজার ছাড়াল

বদলে যাওয়া জলবায়ু কোন ভবিষ্যত আনছে শিশুর জন্য?

অক্টোবরে হাসপাতালে ৫ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ২২  

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জুলাই থেকে উদ্বেগ বাড়াতে থাকে ডেঙ্গু। এরপর গত সেপ্টেম্বরে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮৪১ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৩ জন।

এর আগে অগাস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এ রোগে প্রাণ যায় ৩৪ জনের। 

অক্টোবরে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৫৮ জন এবং মারা যার ২২ জন।

২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করায় এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন; ওই বছরই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এ ভাইরাস জ্বরে।

সে বছর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসা ২৬৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১৪৮ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল আইইডিসিআর।

পরের বছর তা অনেকটা কমে আসায় হাসপাতালগুলো ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছিল। এ বছর যা অনেক বেড়ে যায়।