শিশুর মস্তিষ্কের জন্য যে খাবারে বেশি ক্ষতি

সন্তানের জন্য কোন খাবারটা ভালো, তা খুঁজে বের করাটা সহজ কাজ নয়। আর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য কোন খাবারগুলো উপকারী বা অপকারী, তা যদি জানা না থাকে, তবে বিষয়টা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বাড়ন্ত বয়সের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পেছনে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকার গুরুত্ব সম্পর্কে যতই জানাবেন, ততই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক চাপ বাড়বে।

বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুর মস্তিষ্কের জন্য সবচাইতে ধ্বংসাত্মক হল ‘জাঙ্ক ফুড’।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন কানাডার ওন্টারিওর ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষকরা। এজন্য তারা ১০০টিরও বেশি গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন।

উদ্দেশ্য একটাই, শিশু ও বয়ঃসন্ধিকালে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের উপর কী প্রভাব ফেলে তার ধারণা পাওয়া।

সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিশুর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরা হয় ‘ইট দিস’ ওয়েবসাইটে।

প্রতিবেদনে যা জানা যায়

শৈশব ও বয়ঃসন্ধিকালে প্রচুর ‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়া হয়। এই খাবারগুলো থাকে ক্যালরিতে ঠাসা, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকরা বলছেন, এই ‘জাঙ্ক ফুড’ মস্তিষ্কের ‘প্রি-ফ্রন্টাল করটেক্স’য়ের ক্ষতি করে। মস্তিষ্কের এই অংশ মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। মজার ব্যাপার হলো, ‘জাঙ্ক ফুড’য়ের ক্ষতিকর প্রভাবের পরিণামে মানুষ তার খাদ্যাভ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়।

কতটা জাঙ্ক ফুড মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে

যেহেতু ‘জাঙ্ক ফুড’ খাওয়ার কারণে মানুষ তার খাদ্যাভ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাই যতই এই খাবারগুলো খাবেন, ততই সেগুলো আরও খেতে ইচ্ছা হবে। যার ফল হিসেবে পরবর্তী বয়সে দেখা যায় ‘অবেসিটি’ বা স্থূলতা।

‘সোশাল সায়কায়াট্রি অ্যান্ড সায়কায়াট্রিক এপিডেমিওলজি’য়ের আরেক গবেষণায় দেখা যায়, বয়সন্ধিকালে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পরবর্তী সময়ে বয়ে আনে হতাশা।

শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য চাই প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি এবং বি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। এজন্য সবুজ শাকসবজি, টক দই, চর্বিওয়ালা মাছ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে।