ঘরে অদ্ভূত গন্ধ? বরং পরখ করুন কয়েকটি জায়গা

শুধু ময়লার ঝুড়ি থেকেই নয়, ঘরের বিছানা থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।

বিলাশবহুল আবাসিক হোটেলগুলোর সুবাসিত পরিবেশ সবাইকে মোহিত করে। নিজের ঘরেও এমন সুবাস থাকলে কতই না ভালো হত। কিন্তু বাস্তবতা আর দৈনন্দিক জীবনের নানান বিষয় সেই সুগন্ধের দেখা পাওয়া দায়।

কেনো? তাহলে বরং জানার চেষ্টা করা যাক।

ময়লার ঝুড়ি

সারাদিনের গৃহস্থালী বর্জ্য দুর্গন্ধ সৃষ্টি করবেই। নিয়মিত ময়লা বাড়ির বাইরে ফেলে এসে তা পরিষ্কার করলেও ময়লার ঝুঁড়ি থেকে বাজে গন্ধ আসবে। তাই ময়লার ঝুড়িতে এবং যেখানে সেটি থাকে তার আশপাশে ‘এয়ার ফ্রেশনার’ রাখতে পারেন।

রান্নাঘরে আরও নানান সুগন্ধ ও দুর্গন্ধ মিশে বাজে ভ্যাপসা পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই শুধু শৌচাগারে নয় রান্নাঘরেও বিভিন্ন ধরনের ঘর সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত।

ডালাস, টেক্সাসের ‘এমিলি’স মেইডস হাউস ক্লিনিং সার্ভিস’য়ের সাধারণ ব্যবস্থাপক অ্যাবি নাভাস রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন, “ময়লার ঝুড়িটি সপ্তাহে একবার ‘ব্লিচ’ মেশানো পানিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।”

একই রকম আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘নিট অ্যাজ আ পিন অর্গানাইজিং অ্যান্ড ক্লিনিং’য়ের কর্ণধার জেনিফার স্নাইডার বলেন, “ময়লার জন্য একটি নির্দিষ্ট ঝুড়ি ঠিক করে রাখুন। প্রতিদিন তা খালি করে পরিষ্কার করতে হবে। ভর্তি হয়নি বলে আরেকদিনের জন্য রেখে দেওয়া চলবে না।”

পোষা প্রাণী

পোষা প্রাণীটি পরিবারের সবারই প্রিয়। তবে তাদের শরীরের দুর্গন্ধ অস্বীকার করার উপায় নেই।

নাভাস বলেন, “যখন তাদের গায়ের পশম ঝরে, ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয় তখন তারা প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। আর এদেরকে প্রতিদিন গোসল করানোও সম্ভব হয় না। তাই যতটা ঘন ঘন সম্ভব হয় তাদেরকে গোসল করান। যেখানে তারা খায় ও ঘুমায় সেই জায়গাগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।”

ঘরে ‘ভ্যাকুয়াল ক্লিনার’ রাখুন এবং তা দিয়ে ঘরের কোনা ও আসবাবপত্রের নিচ পরিষ্কার করতে হবে যাতে সেখাণে পোষা প্রাণীর পশম জমে থাকতে না পারে।

ভেজা কাপড়

নাভাস বলেন, “ময়লা কাপড় রাখার ঝুড়িটা শৌচাগারে রাখা উচিত নয়। পর্যাপ্ত আলো বাতাস পৌঁছায় এমন স্থানে ঝুড়িটে রাখুন। আর্দ্র পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটে দ্রুত। ফলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। ভেজা কাপড় ঘরে রাখা যাবে না। আর ময়লা কাপড় যত দ্রুত ধুয়ে ফেলা যায় ততই ভালো।”

বিছানা

স্নাইডার বলেন, “নিজের ঘরের গন্ধ নিজে পাওয়া যায়না, কারণ তা আমাদের শরীরের গন্ধই। শোবার ঘরে গন্ধ হওয়ার একটি বড় কারণ হলো বিছানার চাদর যা শরীরের জৈবিক তেল, ঘাম ইত্যাদি লেগে নোংরা ও গন্ধ হয়ে যায়।”

যারা দিনে গোসল করে তাদের প্রতি সপ্তাহের বিছানার চাদর বদলানো উচিত। আর যারা রাতে গোসল করে ঘুমান তাদের উচিত দুই সপ্তাহের একবার চাদর বদলানো।

ফ্রন্টলোড ওয়াশিং মেশিন

শুধু ‘ওয়াশিং মেশিন নয়, গৃহস্থালী যে যন্ত্র প্রতিনিয়ত পানির সংস্পর্শে আসে সেগুলোতে ছত্রাক জন্মায়, যা আবার দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়ার আদর্শ পরিবেশ।

ওয়াশিং মেশিনের দরজা বন্ধ করে রাখাতে এর মধ্যে জমে থাকা আর্দ্রতা ব্যাক্টেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই ব্যবহারের পর দরজা খুলে রাখুন যাতে ভেতরটা শুকিয়ে যায়।

যে বাক্সে ‘ডিটারজেন্ট’ দেওয়া হয় সেটাও প্রতিবার নতুন করে ভর্তি করার আগে ধুয়ে খুলে রাখতে হয় যাতে শুকিয়ে যায়।

যদি কোথাও ছত্রাক দেখা যায় তবে ভিনিগার ও বেইকিং সোডার মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। 

নতুন আসবাব

নেচার বিল্ডস হেল্থ’য়ের প্রতিষ্ঠাতা বার্ট ওয়ালবার্স বলেন, “নতুন কাঠের আসবাবের বার্নিশের গন্ধ শুরুতে বেশ ভালোই লাগে। তবে মনে রাখা উচিত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ সেই গন্ধের কারণ। আর চার দেয়ালের মাঝে থাকা বাতাসে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মাত্রা ১০ গুন বেশি থাকে, যার একটা বড় কারণ হল এই আসবাবপত্র।”

এই রাসায়নিক উপাদানগুলোকে বলা হয় ‘ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (ভিওসি)। কড়া গন্ধের এই উপাদানগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চোখ, নাক ও গলায় অস্বস্তি, মাথাব্যথা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এই উপাদানগুলো নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে যকৃত, বৃক্কের ক্ষতি হয়, শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি তো হয়ই।

এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় হলো ‘কার্বন ফিল্টার’ আছে এমন ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ ব্যবহার করা।

ঘরের কোনো নতুন আসবাব থেকে যদি এক মাসেও নতুন নতুন গন্ধ না যায় তবে যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে যোগাযোগ করুন, নিশ্চয়ই তাতে কোনো সমস্যা আছে।

আরও পড়ুন

পরিচ্ছন্ন ঘর দিতে পারে মানসিক স্বস্তি  

ঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে  

ঘরে প্রাকৃতিক সুগন্ধি