নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ ‘পাচ্ছেন না’ জিএম কাদের

মহামারীর বিপর্যস্ত অবস্থা পেরিয়ে আসার পর নিত্যপণ্যের দাম এখন বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, “অকারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। মহামারীকালে অনেক যৌক্তিক কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।”

বাজারে তেলের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ছে। দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিকেজি ৭৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। নতুন করে চিনি, মুরগি, আদাসহ আরও কিছু ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সভায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের কষ্টে উদ্বেগও প্রকাশ করেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা কাদের।

“দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, পরিবারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। শিক্ষিত অনেক বেকার যুবক কাজ না পেয়ে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। কিন্তু কারো যেন কিছুই করার নেই।”

দলের নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানাতে কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীদের আগমন উপলক্ষে এই সভার আয়োজন হয়।

জিএম কাদের এসময় বলেন, “দেশে সুশাসনের অভাব আছে। তাই ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরী হচ্ছে না। কিছু মানুষ কোটি কোটি টাকা খরচ করতে বিদেশে যাচ্ছে, দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে অট্টালিকা তৈরি  করছে।

“দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষের পরিবার চালাতে দুঃশ্চিন্তাও বেড়েছে। দুঃশ্চিন্তায় মানুষ ঘুমাতে পারছে না। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হলেই মানুষ সংসার চালিয়ে কিছু সঞ্চয় করতে পারবে। সঞ্চয় তো দূরের কথা, এখন দেশের মানুষ ভালোভাবে দিনই চালাতে পারছে না।”

দেশের সংবিধান অনুযায়ী পূর্ণ গণতন্ত্রের চর্চা সম্ভবপর নয় বলে মন্তব্য করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের।

“বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি সুশাসন ভোগ করেছে। তাই দেশের মানুষ আবারও জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়।”

সভায় দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “প্রতিটি গ্রামে গ্রামে জাতীয় পার্টির কমিটি করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে দলকে আরও সুসংহত করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী জাতীয় পার্টি লড়াই করবে। গণমানুষের আস্থা নিয়ে জাতীয় পার্টি দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। আগামী দিনে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে জাতীয় পার্টি।”

নতুন সহাসচিবকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাপা কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সৈনিক পার্টির সাবেক সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, তাড়াইল উপজেলার সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম শাহীন, করিমগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আসমা বেগম, চান মিয়া।