মৃত্যুবার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দীর প্রতি আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেরর নেতাকর্মীরা হাই কোর্ট এলাকায় তিন নেতার মাজারে সোহরাওয়ার্দীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “পঁচাত্তরের পর গণতন্ত্র ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বারবার  বলি হয়েছে, নির্বাচনের কফিনে গণতন্ত্রকে বারেবারে লাশ বানানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম  করে যাচ্ছেন।

“অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হলেও গণতন্ত্র এখনো পুরোপুরি পরিপূর্ণতা পেয়েছে তা দাবি করা যায় না। গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণতা দিতে হলে গণতন্ত্রের এই অভিযাত্রায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশমান ধারাকে পরিপূর্ণতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে  হবে।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “গণতন্ত্রপ্রিয় সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পঁচাত্তরের পর যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেছে  ক্ষমতার মঞ্চে বসে, সেই অপশক্তির দোসররা  এখনো বেঁচে আছে, তারাই বারেবারে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায়।”

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনের নাম হয় ‘নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’, যার সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অবিস্মরণীয় জয় পায়।১৯৫৬ সালে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর পদত্যাগের পর  সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেল মৃত্যু হয় এই রাজনৈতিক নেতার।