খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে চার দিন সময় দিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে চার দিন সময় বেঁধে দিয়ে রোববার সারাদেশে অনশন ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব সুপ্রিম কের্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন,  “আমরা এ সরকারকে চার দিন সময় দিলাম। বুধ-বৃহস্পতি-শুক্র-শনি। রোববার আমরা সারা বাংলাদেশে আইনজীবীরা অনশন ধর্মঘট করব।

“প্রত্যেক ঘরে, প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় ঘোষণা করবেন- অনশন ধর্মঘট হবে আগামী রোববার। এরপরেও যদি সরকার সোজা না হয় আমি জানি না কী হবে?”

দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে গত বছর ২৫ মার্চ তাকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার লিভার সিরোসিস ধরা পরে।

চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশ নিতে চাইলে আইনমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে যেতে হলে কারাগারে ফিরে আবেদন করতে হবে।

আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ফজলুর রহমান বলেন, “আপনি খুঁজে বের করুন আইনের পথ কোনটি। আইনের পথ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে আইন বড় নয়।”

সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “আজকে যদি এই সরকার আইনের কথা বলে দেশকে পদানত করে রাখে, এমন সময় আসবে এদেশে মানুষে মানুষে মিছিলে মিছিলে রাজপথ কম্পিত করবে।

“সংগ্রামে সংগ্রামে আন্দোলনে আন্দোলনে এদেশের রাজপথ আগুন জ্বালাবে, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে। সেই দিনটা বেশি দূরে নয়। আসুন দেশনেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আমরা আন্দোলন করি।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা বলেছেন, আইন দেখাচ্ছেন? কোন আইন? যে আইন দেখাচ্ছেন ৪০১ ধারা।

“সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, সরকার, শুধু সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে। এখানে আইন কোনো বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার যারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, যারা জনগণকে প্রতারণা, ভুল বুঝিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।”

আইনজীবীদের সমাবেশে তিনি ‘দুর্বার গণআন্দোলনের’ মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে ‘মুক্ত করে’ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, “সরকারকে বলব, যদি খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেখতে না চান, অন্য কিছু যদি চিন্তা না করেন তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো ‘বাধা নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে বলছি, যদি কোনো বাধা হয় তাহলে একমাত্র সরকারই বাধা।”

ঢাকা বারসহ সারাদেশের বারগুলো থেকে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এই সমাবেশে অংশ নেন। খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী ও অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজলের সঞ্চালনায় সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট মীর নাসির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট আবদুল গাফফার মিয়া, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।