সংলাপে আওয়ামী লীগের ৪ প্রস্তাব

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের জন্য সব নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে চারটি প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে আলোচনা শেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন গঠনে অল্প সময়ের মধ্যেই আইন করা সম্ভব আশা প্রকাশ করে কাদের বলেন, “কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল।”

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের দিনই সোমবার সব রাজনৈতিক দলের দাবি অনুযায়ী, ইসি গঠনে একটি আইন করার খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বিকালে সংলাপে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যান। বঙ্গভবনের দরবার হলে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই নির্বাচন কমিশন গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নতুন কমিশন গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতেই রাষ্ট্রপতির এ সংলাপ, যা শেষ হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে।

গত ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে এবারের সংলাপের খাতা খোলেন রাষ্ট্রপতি।

পরে আলোচনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংলাপে দেওয়া চারটি প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

“এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।“

আইন করার বিষয়ে তিনি বলনে, “সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এ আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে যে কোনো আইন হবে সাংবিধানিক বিধান মতে একটি বিশেষ ধরনের আইন।

“এ বিশেষ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক অনুশীলন প্রতিষ্ঠা করেছে।“

এর আগে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে দুবার (২০১২ ও ২০১৭) ইসি গঠনের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুবারই দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ অনুশীলনে অংশ নিয়েছে।

“এমতাবস্থায়, এ রীতির আলোকে এবং এ প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।”

চতুর্থ প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, “সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সব নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করার পরে সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের হাতে ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কোনো ম্যাজিক তা নয়। আইন আইনের গতিতেই হবে।

“কাম অ্যান্ড সি, নাথিং ইজ ইম্পসিবল। যেহেতু এটা জন দাবি, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। ৫০ বছর আগের আইনে যেহেতু চলছে, জাতীয় স্বার্থে একটা আইন পাস হওয়ার দরকার ছিল, আগে হওয়ার কথা ছিল। কেন হবে না, প্রক্রিয়া তো আছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী সমুদয় চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।“

তিনি বলেন, "প্রথম বা দ্বিতীয়বার হয়নি, এবার হবে না এমন কোনো কথা নয়। আইনটা হয়ে গেলে এবারই হবে।”

ইসি গঠনে আইনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ রাষ্ট্রপতির  

সার্চ কমিটি রেখেই হচ্ছে ইসি গঠনের আইন  

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ  

ইসি নিয়ে সংলাপ: আইন করার পক্ষেই পাল্লা ভারী  

সংলাপ শেষ হচ্ছে ১৭ জানুয়ারি, তারপরই ‘সার্চ কমিটি’