নিউ ইয়র্কে সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর নাগরিক সংবর্ধনা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহকে ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিল্পী ও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সময় রোববার নিউ ইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে প্রদত্ত নাগরিক সংবর্ধনায় ৮৭ বছরের সঙ্গীতজ্ঞ মুতলিব বিশ্বাস এবং ৮১ বছরের কবি বেলাল বেগ প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ’র সংবর্ধনা সমাবেশে আগত অতিথিরা।

আয়োজকদের প্রধান ফখরুল আলম এমন একটি অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “জীবিত অবস্থায় ভালো কাজের স্বীকৃতি পেলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হন আলোর পথে জোরালোভাবে ধাবিত হবার জন্যে। সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহকে সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে সে দায়িত্বটি পালনে একদল সমাজ-সংগঠক সোচ্চার হয়েছেন, আমিও ছিলাম তাদের সাথে।”

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর সংবর্ধনা সমাবেশে অতিথিরা।

তিনি বলেন, "নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্তরিকতা নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে নেপথ্যে কাজ করে গেছেন- অজয় তালুকদার, আব্দুল আজিজ নাঈমী, আব্দুর রব চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ চৌধুরী, আকবর হায়দার কিরণ, এস এম ইকবাল ফারুক, এম এস আলম, ড. ওবায়েদুল্লাহ মামুন, গাজী সামসউদ্দিন, মোল্লা মনিরুজ্জামান, এডভোকেট মজিবুর রহমান, মুজিবুল হক, মো. তাজুল ইসলাম, মো.গোলাম মোস্তফা, মেহের কবির, মো. হানিফ মজুমদার, সামসুদ্দিন আহমেদ শামীম, সৈয়দ মিজানুর রহমান, স্বপন বড়ুয়া, সমিরন বড়ুয়া, শাহাবউদ্দিন, জাহেদ শরিফ, রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, রাজীব আহসান, নিহার সিদ্দিকী, নূরে আলম জিকো এবং নুরুল আবসার।"

নিজের বক্তৃতায় ফখরুল আলম নামোল্লেখ করার সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকদের প্রত্যেকে এক এক করে মঞ্চে ওঠেন। এক পর্যায়ে সংবর্ধনা পাওয়া সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ মঞ্চে আসেন স্ত্রী দিলরুবাকে সাথে নিয়ে। ফটো সেশনে যুক্ত হোন সবাই।

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর সংবর্ধনা সমাবেশের আয়োজকরা।

এরপর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এর অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যালামনাই সংগঠন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গান পরিবেশন করেন কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান।

সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক ফখরুল আলম।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শিশু-কিশোরের সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে। কবিতা, গান, নাচ আর কথামালার সমন্বয়ে চলতে থাকা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন গোলাম মোস্তফা এবং সাবিনা শারমিন।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিরা ভিডিও-তে শুভেচ্ছা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক ছিল ‘দিগন্ত’। দ্বিতীয় পত্রিকা হিসেবে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ ‘প্রবাসী’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা বের করেন। পরে তা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে বেশ কয়েক বছর প্রকাশ হয়। সাপ্তাহিক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সবসময় আপসহীন ছিল বলে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা মনে করেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহকে সর্ম্বধনা ও শুভেচ্ছা দিচ্ছেন আয়োজকদের আহ্বায়ক ফখরুল আলম ও তার স্ত্রী। এসময় মোহাম্মদ উল্লাহর স্ত্রীও পাশে ছিলেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সেক্রেটারি ফখরুল আলমসহ ২৮ সমাজ-সংগঠকের এ উদ্যোগ কমিউনিটিতে সক্রিয় থাকবে বলে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তাদের বক্তব্যে, মানুষ ও মানবতার জন্য সত্যিকার অর্থে কর্মরতদের জীবিতাবস্থায় সম্মানিত করার আঙ্গীকার করেন।

পরে এক বিবৃতিতে ফখরুল আলম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য আয়োজক কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!