বিশ্বকাপ বাছাই ক্যাম্প: শুরুর শিহরণে শঙ্কার বাগড়া

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর চেনা মুখগুলোকে দেখা হবে। গল্প-গুজব, খুনসুঁটি করা যাবে। মন-প্রাণ ঢেলে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। হাতেও ছিল কোভিড-১৯ এর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট। এত প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পে এসে অনেকের কোভিড-১৯ পজিটিভ আসায় শুরুর শিহরণ উবে গেছে অনেকটাই। তবে তপু বর্মন জানালেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উৎফুল্ল থাকার চেষ্টা করছে সবাই।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইকে সামনে রেখে গত শুক্রবার থেকে যে উদ্যেমে ক্যাম্প শুরুর কথা ছিল, করোনাভাইরাসের থাবায় সেটা হয়নি। শুরুর দুই ধাপে ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রতিদিন সকালে ঘণ্টা খানেকের অনুশীলন করছেন নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া খেলোয়াড়রা; তপু আছেন এই দলে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছোবলে গত মার্চের মাঝামাঝি খেলাধুলা বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে ছেলেদের ফুটবল মৌসুমই বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বিরূপ পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের প্রায় ছয় মাস পর আবার এক ছাতার নিচের আসার উপলক্ষ্য হয়ে আসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্প।

কোভিড-১৯ রিপোর্ট নিয়ে শুরুর বিড়ম্বনা ফুটবলারদের জন্য ধাক্কা হয়ে এসেছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তপু জানালেন, ধাক্কা কাটিয়ে উৎফুল্ল থাকার নিরন্তর চেষ্টার কথা।

“প্রায় ছয় মাস আমরা খেলার বাইরে ছিলাম। যখন ক্যাম্প শুরুর কথা হলো, তখন আমরা খুব শিহরিত ছিলাম। ক্যাম্পে যোগ দিব। সবার সঙ্গে ফের দেখা-সাক্ষাৎ হবে। আবার একসঙ্গে অনুশীলন করব। সবার মধ্যেই একটা উত্তেজনা ছিল।”

“কিন্তু নতুন করে টেস্টের পর হঠাৎ পজিটিভ রিপোর্ট পেয়ে সবাই একটু হতাশ। অনেকে একটু ভয়ের মধ্যে আছে। বিশেষ করে তরুণরা এবং যারা প্রথমবারের মতো ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে।”

ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া চার জনের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ এফসির মিডফিল্ডার নাজমুল হোসেন ও ফরোয়ার্ড এমএস বাবলু এবং উত্তর বারিধারার ফরোয়ার্ড সুমন রেজার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অন্যজন বসুন্ধরা কিংসের ফিনল্যান্ড প্রবাসী খেলোয়াড় কাজী তারিক রায়হান এখনও ক্যাম্পে যোগ দেননি।

খেলোয়াড়, স্টাফ থেকে শুরু করে ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইসিডিডিআরবি ও প্রভা হেলথে ফের টেস্টের জন্য নমুনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার-বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়ার কথা। তপু আশাবাদী সবাই দ্রুত সেরে উঠবে; প্রস্তুতিও শুরু হবে পুরোদমে।

“একেবারে যারা তরুণ, তারাও কিন্তু নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে এসেছিল। পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর ভীষণ আপসেট। তবে আশা করি, তারা সুস্থ হয়ে দ্রুত সবকিছু শুরু করতে পারবে।”

ক্যাম্পের জন্য বেছে নেওয়া গাজীপুর সারা রিসোর্টের পরিবেশে মুগ্ধ তপু। বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডার জানালেন, প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই আছে সেখানে।

“দেশের ভেতরে এমন একটা জায়গায় কখনও ক্যাম্প হয়নি আমাদের। জায়গাটা সুন্দর। খোলামেলা। সবকিছু গোছালো। সুইমিংপুল, জিমনেশিয়াম, রুমের পরিবেশ খুব ভালো। অনুশীলনের জন্য সুন্দর মাঠ আছে। সব কিছু মিলিয়ে সুযোগ-সুবিধা খুবই ভালো।”

“যখন আমরা এখানে আসি, তার কয়েকদিন আগে তারা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার সরঞ্জাম কিনেছিল জিমনেশিয়ামের জন্য। রিসোর্টের একজন কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তিনি এ কথাটি বলেছিলেন। আগেও কিছু সরঞ্জাম ছিল জিমে, কিন্তু ক্যাম্প উপলক্ষ্যে আরও সরঞ্জাম কেনা হয়। জিমটাও বেশ সাজানো-গোছানো এবং যা আছে, তা দিয়ে চলে আমাদের।”

কোচ জেমি ডে বর্তমানে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। এই অগাস্টেই তার ফেরা ও দল নিয়ে কাজ শুরুর কথা। মাঝের বিরতির সময়েও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়ার কাজটি অবশ্য করে আসছিলেন তিনি। তপু জানালেন, ক্যাম্পে তাদের খাবার, অনুশীলন সবকিছু দেখভাল করছেন ডে।

“আমরা যারা নেগেটিভ তারা দুই জন করে এক রুমে আছি। পজিটিভরা দুই জন একরুমে। ফুড গ্রহণ করছি, ডেমি ডের তত্ত্ববধানে। সবকিছু তিনিই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ খাবার সরবরাহ করছে।”

“নিয়মিতই কোচের সঙ্গে কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি, খেলোয়াড়দের মনোভাব, কে কি করছে, অনুশীলন কিভাবে করছি-এসব সম্পর্কে জানতে চান, সেগুলো বলি। কোনো বিষয়ে পরামর্শ থাকলে তিনি দিচ্ছেন।”

করোনাভাইরাসের রিপোর্ট নিয়ে তালগোল যাই হোক না কেন, সব মিলিয়ে লম্বা সময় পর এক আঙিনায় এসে সবাই ভীষণ আপ্লুত বলেও জানালেন ২৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

“রিপোর্ট নিয়ে হতাশা, খারাপ লাগা যাই থাকুক না কেন, সাড়ে পাঁচ মাস পর চেনামুখগুলো দেখছি। সবাই উৎফুল্ল আছে। নিজেরা উৎফুল্ল থাকার চেষ্টা করছি। যাদের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, তাদেরও উৎফুল্ল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”