আরেকটি দাপুটে জয়ে নকআউট পর্বে ইতালি

অসাধারণ পথচলায় আরেকটি দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ইতালি। সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে এবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রাখল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় ‘এ’ গ্রুপে বুধবার রাতের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে ইতালি। মানুয়েল লোকাতেল্লির জোড়া গোলের পর তৃতীয় গোলটি করেন চিরো ইম্মোবিলে।

দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে রাখায় সামান্য পিছিয়ে পড়লেও মাঠের আধিপত্য পুরোটা সময়ই ছিল ইতালির হাতে। তাদের ১৩ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে, তিনটিই গোল। বিপরীতে সুইসদের ছয় শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে।

প্রথম ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষেও একইরকম দাপুটে ফুটবল খেলে একই ব্যবধানে জিতেছিল ইতালি। এই আসরের আগে ইউরোয় কখনোই এক ম্যাচে তিন গোল করার অভিজ্ঞতা ছিল না দলটির। সেখানে এবার পাঁচ দিনের মধ্যে দুবার তাই করে দেখাল তারা।

তুর্কিদের গুঁড়িয়ে অভিযান শুরু করার আত্মবিশ্বাস তো ছিলই। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক মানসিকতায় ম্যাচের শুরুতেই চেপে বসার সুযোগ পেয়ে যায় ইতালি।

বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ১৯তম মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন ইতালি অধিনায়ক জর্জো কিয়েল্লিনি। তবে ভিএআরে সাহায্যে হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান রেফারি, লাফিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় তার হাতে বল লেগেছিল।

গোলের জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ২৬তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন লোকাতেল্লি। গোলটির মূল কৃতিত্ব যদিও তারই ক্লাব সতীর্থ দমেনিকো বেরার্দির। মাঝমাঠে সতীর্থের ক্রস পেয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে ঢুকে বাইলাইনের কাছ থেকে দুজনের মাঝ দিয়ে গোলমুখে বল বাড়ান সাস্সুয়োলোর এই উইঙ্গার। ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে বাকি কাজ সারেন লোকাতেল্লি।

দ্বিতীয়ার্ধেও একচেটিয়া চাপ ধরে রাখা ইতালি ৫২তম মিনিটে ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। নিকোলো বারেল্লার পাস পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জায়গা বানিয়ে বুলেট গতির শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার লোকাতেল্লি।

৬৪তম মিনিটে সত্যিকার অর্থে প্রথম একটু ব্যস্ত সময় কাটে ইতালি গোলরক্ষক জানলুইজ দোন্নারুমার। ডাবল সেভে সেই পরীক্ষায় দারুণভাবে উতড়ে যান তিনি।

খানিক পর দুই মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার দুটি সুযোগ পান ইম্মোবিলে। দূরের পোস্টে নেওয়া তার দুটি শটই হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।

হতাশা মুছে নির্ধারিত সময় শেষের আগের মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ইম্মোবিলে। অনেক দূর থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান লাৎসিও ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক ইয়ান সমের ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার ছয় মাস পর রবের্তো মানচিনিকে দায়িত্ব দিয়েছিল ইতালি। যার হাত ধরে আজ অজেয় হয়ে উঠেছে দলটি। ২০১৮ সালে নেশন্স লিগে পর্তুগালের বিপক্ষে হারের পর আর ওই তেতো স্বাদ পায়নি তারা। অপরাজেয় পথচলা বেড়ে দাঁড়াল ২৯ ম্যাচে। আর জাল অক্ষত রেখে টানা জয়ের সংখ্যাটা হলো ১০ ম্যাচ!

ইতালির আক্রমণভাগে নেই কোনো বড় মাপের তারকা। একই রকম চেহারা মাঝমাঠেরও। রক্ষণে অবশ্য আছে দুই অভিজ্ঞ জর্জো কিয়েল্লিনি ও লিওনার্দো বোনুচ্চি। তবে, একক নৈপুণ্যে বিশ্বসেরাদের কাতারে বিবেচিত হতে পারে এমন কোনো নাম নেই স্কোয়াডে। তারপরও তারা এতটা সফল ও ধারাবাহিক কীভাবে?-মূল কারিগর কোচ মানচিনি।

অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া তার দলের প্রতিটি পজিশনে আছে সঠিক খেলোয়াড়। আর তাদের সেরাটা বের করে আনতে কার্যকর কৌশল।

কক্ষপথ ধরে এখন শুধুই সামনে এগিয়ে চলার চ্যালেঞ্জ, স্বপ্ন শিরোপা।

দিনের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে এগিয়ে আছে ওয়েলস।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে আগামী রোববার গ্যারেথ বেলের ওয়েলসের মুখোমুখি হবে ইতালি। একই সময়ে আরেক ম্যাচে লড়বে সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক।